Posts

গল্প

লাভ জিহাদ, বাগওয়া লাভ ট্র‍্যাপ এবং মব লিঞ্চিং

January 6, 2026

Md. Anwar kadir

30
View

রফিকের ছোট ভাই শফিক। সে কারো কাছ থেকে লাভ জিহাদ এবং বাগওয়া লাভ ট্র‍্যাপ সম্পর্কে শুনে এসেছে। বিষয়টি পরিস্কার হওয়ার রফিককে জিজ্ঞেস করলো। 
রফিক বললো,"লাভ মানে ভালোবাসা, আর জিহাদ মানে যুদ্ধ। দুটো জিনিস একটি আরেকটির বিপরীতে, কিছুতেই এক হয়না। 
ভারতে মুসলিম যুবকদের উপর অভিযোগ আনা হচ্ছে যে, তারা সনাতন ধর্মের মেয়েদের মিথ্যা প্রেমের ফাদে ফেলে ধর্মান্তরিত করছে। এটাকেই হিন্দত্ববাদীরা লাভ জিহাদ নাম দিয়েছে। 
আসলে লাভ জিহাদ বলতে কিছু নেই, থাকতে পারেওনা। কেউ যদি এমনটা করেও, সেটাও ইসলামের দৃষ্টিতে একটা অপরাধ। কেউ যদি কোন মেয়েকে ধোকা দেয় ইসলামের জন্যে, সেটাও ইসলামে নিষিদ্ধ। 
সবচেয়ে বড় কথা বিয়ের আগে বা বিবাহ বহির্ভূত প্রেম-ভালোবাসা জিনিসটাই ইসলামে নিষিদ্ধ।"
শফিক বললো,"কেউ যদি এমন নিষিদ্ধ কাজ করে এবং তাদের শাস্তি হয়, তবে তাদের জন্য আমরা কষ্ট পাবো কেন? তাদের জন্য প্রতিবাদ জানাবো কেন?"
রফিক বললো,"দেখো। মুসলিমরা সবাই এটার বিরুদ্ধে কথা বলে। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য৷ সমস্যা হলো, ওরা অনেক ছেলেকে এই অপবাদ দিয়ে মব লিঞ্চিং করে মেরে ফেলে। আবার জেলে পুরে। অথচ ভারতের আইনে কিন্তু এটা কোন অপরাধ না।
অনেককে আবার মিথ্যা অপবাদ দিয়েও বিপদে ফেলা হয়। তাই আমাদের তো কষ্ট লাগবেই৷ সে আমাদের ভাই। তার জন্য প্রতিবাদ না জানানোর সুযোগ নেই।"
শফিক আবার জিজ্ঞেস করলো,"মব লিঞ্চিং আবার কি জিনিস?"
রফিক উত্তর দিলো,"সহজ কথায়, মানুষ যখন সংঘব হয়ে কাউকে আক্রমণ সেটাকেই মব লিঞ্চিং বলে। অনেক সময় আক্রমণকারী নিজেও জানেনা কেন সে এটা করছে। 
আসলে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সুবিধা নেয়ার জন্য পেছন থেকে মানুষকে এসব কাজে উসকে দেয়। এটা বাংলাদেশেও হয়, এমনকি মুসলিমরাও করে। কয়েকদিন আগেই তো ভালুকায় এক হিন্দু ভাইকে মেরে ফেলেছে কিছু সংঘবদ্ধ মুসলিম লোক। অথচ সে ছিলো নির্দোষ; সে দোষী হলেও তাকে এভাবে হত্যা করার অধিকার কারো নেই। জানিনা, এই লোকগুলো এখন কোন মুখে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে।"
শফিক এবার প্রশ্ন করলো,"আর বাগওয়া লাভ ট্র‍্যাপ? এটা আবার কি?"
রফিক বললো,"মুসলিম মেয়েদের প্রেমের ফাদে ফেলে তাদের পেটে হিন্দু বাচ্চা দেওয়ার এক ট্র‍্যাপ। সমস্যা হলো, ভারতের কিছু উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এসব কাজে তাদের যুব সমাজকে উসকে দিচ্ছে। এটি তারা বাংলাদেশেও শুরু করছে। এটা একটা নোংরা খেলা।
মুসলিম সমাজের অভিভাবকরআ অনেক ক্ষেত্রে জানেই না তাদের ছেলে-মেয়েরা কি করছে। অনেক মেয়েই শেষে উপায় না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।"
শফিক বললো,"তাহলে তো আমাদের এসব বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি প্রয়োজন। সমাজে যেন কোন ভুল বুঝাবুঝি না থাকে।"

Comments

    Please login to post comment. Login