টিভিতে টকশো দেখছিলাম, আমি আর আমার ছোট ভাই মারুফ। একজন স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবী কথা বলেছন; তিনি এদেশের আলেমসমাজের মুণ্ডপাত করছেন।
বলছেন,"এদেশে ইসলাম এনেছে সুফি-সাধকরা, আলেমসমাজ না।"
মারুফ আমাকে জিজ্ঞেস করলো,"ঠিকই তো ভাই। তাহলে কেন আলেমসমাজ সুফি-সাধকদের কোনঠাসা করে রাখেন?"
বললাম,"এই বুদ্ধিজীবী যা বলেছেন তা সত্য। কিন্তু এর দ্ধারা যা বুঝাতে চাচ্ছেন তা ভয়ংকর।"
আমার কথায় মারুফ একটু কনফিউজড হয়ে গেল। সে প্রশ্ন করলো,"বুঝিয়ে বলো ভাই। কথাটা কেমন যেন গুলিয়ে গেছে।"
বললাম,"দেখো। তখনকার সুফি-সাধকরা যে কথাগুলো বলতেন সে সকল কথা হয়ত এখন তুমি বর্তমানের আলেমদের কাছে পাবে।
আর এখন যাদের সুফি-সাধক ভাবো তোমরা বা ওই বুদ্ধিজীবী বুঝাতে চান তারা প্রায় সবাই ভন্ড৷
তখন সুফিরা এদেশে এসেছেন আল্লাহর পরিচয় নিয়ে। তারা এখানে একত্ববাদ প্রচার করেছেন। আর এখনকার ভন্ড সুফিরা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অধিকাংশ ভন্ড অলির দরবারে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামে আছে, আছে নেশা দ্রব্যের ছড়াছড়ি। আবার আছে পীরপুজা, মাজার পুজা ইত্যাদি।
অনেক ভন্ড অলিরা বছরে কয়দিন গোসল করে তা নিয়েও সন্দেহ আছে। এরা নামাজ পড়েনা, নামাজের শিক্ষাও দেয়না। জিহাদকে বানিয়ে দিয়েছে আত্মার জিহাদ।
তখনকার সুফি-সাধকরা অবশ্যই এসব প্রচার করতেননা৷"
মারুফ বললো,"তুমি ঠিক কথাটাই বলেছো ভাই। এটাই হতে দেখা যায়।"
আমি বললাম,"এই সস্তা বুদ্ধিজীবীরা আমাদের সামনে কথা বলেন আব্দুল কাদের জিলানী (রহ:) এবং শাহ জালাল (রহ:) এর শিক্ষা নিয়ে। কিন্তু যখন আমাদেরকে সুফি-সাধকদের অনুসরণ করতে বলেন, তখন সামনে আনতে চায় বর্তমানের কতগুলো ভন্ড সুফিদের।
এটাই সমস্যা। এরাই দেশের আসল শত্রু।
কারণ, এরা কতগুলো নারীবাজ-নেশাখোর, কবরপুজারী-মাজারপুজারীকে আমাদের সামনে ইসলামী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।"
মারুফ অবাক হয়ে বললো,"এসব করে এইসব বুদ্ধিজীবীদের কি লাভ?"
উত্তরে বললাম,"কারণ এইসব বুদ্ধিজীবী সত্যিকারের ইসলামকে ভয় পায়। বরং এদেশকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পঙ্গু করে দিতে চায়। নব্বই শতাংশ মুসলিমের দেশে এরা মুসলমানদেরকেই ইসলাম থেকে সরিয়ে নিতে চায়। ওরা ইসলামকে ওদের ভাষায় সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করতে চায়। হয়ত এরা এসব করার জন্য ইসলামের শত্রুদের কাছ থেকে কোন সুবিধাও পায়।"
26
View