রাজন: অসহায়দের আশ্রয়
একটি শহরে বাস করত একটি ছেলে। তার নাম রাজন। সবাই আদর করে তাকে “রাজা” বলে ডাকত। নামের মতো রাজকীয় কোনো বিলাস তার জীবনে ছিল না, কিন্তু তার মনটা ছিল সত্যিই রাজাদের মতো উদার।
রাজন ছিল অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। স্কুল–কলেজ জীবনে সে সবসময়ই প্রথম সারিতে থাকত। বর্তমানে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। এখন আর বাবার কাছ থেকে হাতখরচ নেয় না—পড়ালেখার পাশাপাশি খাবার ডেলিভারির কাজ করে নিজের খরচ নিজেই চালায়। জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট—নিজের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে।
কিন্তু রাজনের জীবন শুধু নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গ্রীষ্মের তপ্ত রোদ, বর্ষার ঝরঝরে বৃষ্টি কিংবা শীতের কনকনে হাওয়া—সব ঋতুতেই সে শহরের গৃহহীন মানুষের পাশে দাঁড়াত। ছিন্নমূল অসহায় শিশুদের পড়ালেখায় সাহায্য করত, কখনো বই দিয়ে, কখনো নিজের সময় দিয়ে।
এখন চলছে হাড়কাঁপানো শীত। মানুষ মোটা লেপে গা ঢাকা দিয়ে ঘুমায়। কুয়াশায় ঢাকা শহরের রাস্তায় খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হয় না। অথচ ঠিক সেই সময়েই রাজন বেরিয়ে পড়ে। তার হাতে শীতের কাপড়—জ্যাকেট, কম্বল। কাঁপতে থাকা অসহায় মানুষগুলোর পাশে গিয়ে দাঁড়ায় সে। একে একে সবার হাতে তুলে দেয় সামান্য উষ্ণতার সম্বল।
সে জানে, এই কম্বল বা জ্যাকেট শীতের বিরুদ্ধে বড় কোনো সমাধান নয়। মোটা লেপের ভেতর থেকেও যখন মানুষ কাঁপে, তখন খোলা আকাশের নিচে সামান্য কম্বলে কতটুকুই বা আরাম! তবুও রাজন তার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করে। কারণ তার বিশ্বাস—সামান্য হলেও কারও কষ্ট কমানোই মানবতা।
রাজনের এই মানবিকতা যদি রাষ্ট্রের নীতিতে পরিণত হতো, তবে হয়তো অসহায় মানুষগুলোর জন্য সুন্দর ঘর তৈরি করা যেত, নিরাপদ আশ্রয় মিলত। কিন্তু তা হয়তো বাস্তবে আর হবে না।
তবুও রাজন থেমে থাকে না।
কারণ সে জানে—
সব রাজা সিংহাসনে বসে শাসন করে না,
কিছু রাজা মানুষের হৃদয়ে আশ্রয় হয়ে বেঁচে থাকে।
25
View