রাসেল লক্ষ করছে তার ছাত্রীর বাসায় আজ সবার মন একটু খারাপ৷ আসলে সে অনেক বছর ধরে এই পরিবারের ছেলে-মেয়েদের পড়াচ্ছে। বাসার কর্তা জনাব লালমিয়া অনেক বড় ব্যবসায়ী। অনেক বড় সিণ্ডিকেট তার।
প্রতি বছর কোরবানির ঈদে আট-দশটা গরু কোরবানি দেয় তারা। তারপর প্রায় প্রতি বছরেই সপরিবারে একবার হজ্ব করে আসে। আল্লাহকে খুশি রাখেন। আবার খুশি রাখেন ল্যাংড়া বাবাকেও৷
ল্যাংড়া বাবার দরবারে প্রতি বছর দুই-তিন লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেন। আবার বাবার মাহফিলে সপরিবারে চলে যায় তারা। আজ তার যা আছে সবই যে এই ল্যাংড়া বাবার দান।
সিন্ডিকেটের মতো মানুষ মেরে খাওয়ার ব্যবসায় তার। অনেক পাপ জমা হয়ে যায়। তাই তো সপরিবারে হজে যেতে হয়। এত পাপ মাফ করতেই যেতে হয়।
বাবা বলে দিয়েছেন। তিনিই মুক্তির পথ দেখাবেন তাকে। তিনিই তাকে মাফ পাইয়ে দিবেন।
তবে এবছরটা লালমিয়ার সিন্ডিকেট এত ভালো চলছেনা। সরকার কেন যেন একটি বেশিই সাবধান। সবকিছুতেই কড়াকড়ি। ছাত্রী বাবা-বাসার কর্তা একটু টেনশনে আছেন। একটু পর পর ল্যাংড়া বাবাকে ফোন করছেন। কর্তার টেনশন সবাইকে সংক্রমিত করেছে। কাচা মরিচ, পেয়াজ, ডিম, মুরগি থেকে শুরু করে সবকিছুতেই তার সিন্ডিকেট। অথচ এ বছর সবাই ন্যায্য মূল্যে সবকিছুই পেয়ে যাচ্ছে।
এই দৃশ্যও তাকে মাটির বুকে দাঁড়িয়ে থেকে দেখতে হচ্ছে। এই ঘটনা দেখার আগে তার মৃত্যু হলেও ভালো হতো। এই বছরটা মন্দা যাচ্ছে। মানুষ মেরে না উপার্জন করলে তার পরিবারের সবার হজ্ব হবে কিভাবে? শয়তান তো তার জন্য অপেক্ষা করবে। তারা সপরিবারে ওখানে গিয়ে শয়তানকে পাথর মারবে। হায়রে কাচা মরিচ, মানুষ ন্যায্য দামে নিয়ে যাচ্ছে।
রাসেল এই পরিবারটিকে যত দেখে ততই অবাক হয়৷ গত পাচ বছর ধরে সে পড়াচ্ছে। ওরা এর মাঝে একবার ওর বেতন বাড়িয়েছে, আর বাড়েনি। মানুষের সেবা না করে কেবল ল্যাংড়া বাবার লেজ ধরে পড়ে থাকে এই পুরো পরিবার।
সে লুকিয়ে খেয়াল করেছে, এই বাসার এক কোণে ছোট একটা কামড়া আছে। সেখানে ল্যাংড়া বাবার ছেড়া একজোড়া জুতোর একটি ছবি রেখে দেয়া হয়েছে; তাতে ফুলের মালা পড়ানো৷ সকাল-সন্ধ্যায় সেখানে আগরবাতি দেওয়া হয়। ল্যাংড়া বাবার দয়াতেই নাকি এই পরিবার এতদূর এসেছে। সিন্ডিকেটের টাকায় তারা সবকিছু করেছে।
26
View