অলি খুব ভালো ছেলে, সে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনায় তার অনেক নামডাক। পড়াশোনার পাশাপাশি নানা রকমের ভালো কাজের জন্যেও সে পরিচিত।
সে ইদানীং পর্নোগ্রাফি দেখাতে নিমগ্ন হয়ে গেছে। সেই সাথে আছে মাস্টারবেশন। তার মা-বাবার অবশ্য এসব দেখার সময় নেই। তারা অত্যন্ত ব্যস্ত জীবন যাপন করে। তারা দুজনেই চাকুরীজীবী।
অলি পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। এই জন্যেও তাকে সবাই খুব প্রশংসা করে।
কিন্তু মোবাইল কেনার পর তার সবকিছুই কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে। মোবাইল নিয়ে পাচ মিনিটের জন্য বসে, ঘন্টার পর ঘন্টা চলে যায়। কোনকিছুই তখন তার নিয়ন্ত্রণে থাকেনা।
প্রথমে তো সফট পর্ন দেখে। তারপর ধীরে ধীরে পর্নোগ্রাফির দিকে তাকে নিয়ে যায়।
ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদিতে ঢুকলেই অর্ধ উলঙ্গ নারীর ছড়াছড়ি। অলি তার বয়:সন্ধিতে হরমোনের আধিক্য থাকায় এই প্রেসার নিতে পারছেনা। ওকে সাহায্য করার জন্যেও কেউ নেই। ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নষ্ট হয়।
এসব থেকে পড়াশোনাতেও প্রভাব পড়ে৷ প্রতি বার সে তওবা করে; কিন্তু তা রক্ষা করতে পারেনা। তার এই সমস্যার কথা কাউকে বলতেও পারেনা। একবার তার বড় ভাইকে বলেছিলো। সে এটা সবাইকে বলে দিয়েছে। আবার অনেক অপমানও করেছে।
অলি লক্ষ করেছে যখনই সে কোন মন্দ কাজ তখনই সে কোন একটা সমস্যায় পড়ে। যখন সে এসব দেখে তখন সে কোন বড় সমস্যায় পড়ে৷ এটাকে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে সঠিক পথে ফিরে আসার জন্য একটা সতর্কবার্তা বলেই মনে করে।
অলির বন্ধু সুমন তাকে ফোনে জানালো যে তার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাজুর মা মারা গেছে গতকাল। সাথে সাথেই তার মনে পড়ে গেলো, গতকাল তাকে তাজু একবার ফোন দিয়েছিলো। সে কেটে দিয়েছিলো।
আসলে সে মোবাইলে খারাপ ভিডিও দেখছিলো তখন। সে চাচ্ছিলোনা কেউ তাকে এই কাজে বিরক্ত করুক, তাই ফোন কেটে দিয়েছিলো। তারপর কল ব্যাক করার কথাও হয়ত ভুলে গিয়েছিলো।
সে মনে মনে অত্যন্ত লজ্জিত হলো। বন্ধু তাজুর মা তাকে সন্তানের মতোই স্নেহ করতেন। এই বাজে অভ্যাসের জন্য সে উনাকে একবার শেষ দেখাটাও দেখতে পারলোনা।
এই ঘটনাকে অলি আল্লহর পক্ষ থেকে একটা বড় সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করলো। সে ভালো করে মন থেকে তওবা করলো, ভবিষ্যতে এমন জিনিস আর দেখবেনা।
কেউ যখন কোন খারাপ কাজ করে তখন হয়ত আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তাও আসে। যারা অন্তর চক্ষু খোলা রাখে তারা বুঝতে পারে। সবাই হয়ত অন্তর চক্ষু খোলা রাখার মতো ভাগ্যবান হয়না।
18
View