রাসেল এর কাছে তার ছোটভাই শফিক আসলো। শফিককে তার কোন এক বন্ধু একটা ভিডিও পাচ্ছে। সেখানে একজন সুরা তাওবা'র ৫নং আয়াত সম্পর্কে বলছে।
উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে,"অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন তোমরা মুশরিকদেরকে যেখানেই পাও হত্যা কর এবং তাদেরকে পাকড়াও কর, তাদেরকে অবরোধ কর এবং তাদের জন্য প্রতিটি ঘাঁটিতে বসে থাকো।"
ভিডিওটা দেখে রাসেল হাসলো। শফিককে বুঝালো যে, এটা যুদ্ধ সম্পর্কে বলা হচ্ছে। যুদ্ধের ময়দানে মানুষ যুদ্ধই করে। তা না হলে তো নিজেকেই মরতে হবে। যুদ্ধের নিয়মই এটা।
তারপর তার মোবাইল খুজে দেখালো যে উক্ত আয়াতের পরের অংশে বলা হয়েছে,"তবে যদি তারা তাওবা করে এবং সালাত কায়েম করে, আর যাকাত দেয়, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
তবে এখানে আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো ৬নং আয়াতটি। উক্ত আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে,"মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে তবে তাকে আশ্রয় দাও যাতে সে আল্লাহর বাণী শোনার সুযোগ পায়; তারপর তাকে তার নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দাও। এটা এজন্য করতে হবে যে, এরা এমন এক সম্প্রদায় যারা (ভাল-মন্দ, সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে) অজ্ঞ।"
শফিক বুঝতে পারলো। রাসেল আবার বললো,"দেখো। সূরা তাওবায় ১২৯টি আয়াত আছে। সব না দেখে শুধু একটি আয়াত থেকে কোন সিদ্ধান্তে আসা যায়না।
ইসলাম কখনোই অবৈধভাবে কারো জীবন নেয়ার অনুমতি দেয়না। এমনকি যুদ্ধ ক্ষেত্রেও নারী, শিশু, ধর্মযাজক, ফসল ইত্যাদির কারো ক্ষতি করা নিষেধ। ইসলামে সবকিছুরই ব্যাখ্যা আছে। কেউ কিছু বললেই সেটা বিশ্বাস না করে নিজে ঘেটে দেখতে হবে। সত্যতা যাচাই করতে হবে।
ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যায়ভাবে একজন মানুষকে হত্যা করলে তা হত্যা গোটা মানব জাতিকে হত্যা করার সমান অপরাধ। আবার একজন মানুষের জীবন বাচানো গোটা মানব জাতির জীবন বাচানোর সমান বড় কাজ।"