এই প্রশ্নটা অনেকবার শুনেছি। সেদিন আমার এক শিক্ষকও জিজ্ঞেস করলেন এটা৷ আসলে কম কথায় এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া একটু কঠিন৷ তবে প্রাথমিক একটা ধারণা দেয়া যায় আরকি।
তিনি প্রশ্ন করলেন,"ইহুদি, খৃষ্টান আর ইসলাম যদি একই আল্লাহর কাছ থেকে এসে থাকে তাহলে কেন তিনটি আলাদা ধর্ম?"
আমি শুধু কম কথায় পার্থক্যটাই উনাকে বুঝিয়ে দিলাম। উনি অবশ্য ধৈর্য ধরে আমার কথাগুলো শুনেছেন।
"ইহুদি: ইহুদি আসলে কোন ধর্ম নয়, এটা একটা জাতি। তারা সৌভাগ্যবান কারণ তাদের কাছে অনেক নবী-রাসুল এসেছেন। তবে তারা তাদের কাছে আসা অনেক নবী-রাসুলকে মেনে নেয়নি। এটা আল্লাহর সাথেই বেয়াদপি। এমনকি সর্বশেষ ঈসা আ: কেও মেনে নেয়নি। এমনকি তাকে হত্যার চেষ্টাও করেছে। তারা ঈসা আ: এর মায়ের চরিত্রের উপর মিথ্যা আরোপ করে।
মজার বিষয় হলো, ইহুদিরা এখনো ঈসা আ: এর প্রথমবার আসার জন্যই অপেক্ষা করছে। অথচ তারা তাকে ভুল বুঝে গ্রহণই করেনি।
খৃষ্টান: ঈসা আ: বনী ইসরায়েল এর জন্যই শুধু এসেছেন। পল নামের এক ব্যক্তি এই ধর্মে অনেক উল্টোপাল্টা ঢুকিয়েছে। এমনকি ঈসা আ: এর শিক্ষার বিপরীতে গিয়ে তা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তারপর নাইসিয়া কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে ঈসা আ: কেও ঈশ্বর হিসেবে দাবি করা হয়েছে (নাউজুবিল্লাহ)। তাছাড়া, সেখানে ঈশ্বরকে একইসাথে একজন এবং আলাদা তিনজন (ট্রিনিটি) বলে চালানো হয় যা হিন্দু ভাইদের ধারণার সাথে কিছুটা মিলে যায় (নাউজুবিল্লাহ)। ইহুদিদের দ্ধারা ঈসা আ: এর মায়ের চরিত্রে যে কালিমা দেয়া হয়েছে তা এখানে খন্ডন করা হয়নি৷
তাদের আরেকটি বিশ্বাস হলো, তারা যত ইচ্ছে পাপ করতে পারবে; কারণ ঈসা আ: সকলের পাপ নিজের ঘাড়ে নিয়ে মরে গেছেন। শুধু চার্চে গিয়ে কনফেস করতে হবে। একজনের পাপ আরেকজনের ঘাড়ে চাপানোটা আসলেই হাস্যকর।
তবে, ওরা অপেক্ষায় আছে ঈসা আ: এর দ্বিতীয়বার আসার জন্য।
ইসলাম: ইসলাম সমগ্র মানব জাতির জন্য এসেছে। কোরান শুধু মুসলমানদের জন্যই নয়, সকলের জন্য রহমতস্বরূপ। ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ সা: শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, তিনি সমগ্র মানব জাতির জন্য রহমতস্বরূপ। তবে, নবীজি সা: এর মাধ্যমে নবী-রাসুলের সিলসিলা বন্ধ করা হয়েছে। তিনি সর্বশেষ নবী-রাসুল।
কোরানে ইহুদিরা যে ঈসা আ: এর মায়ের চরিত্রে কালিমা দিয়েছে তার প্রতিবাদ করা হয়েছে৷ ঈসা আ: কে ঈশ্বর বলা হয়নি, বরং একজন সম্মানিত রাসুল হিসেবে দেখা হয়েছে।
ঈসা আ: আবার আসবেন, নবীজি সা: এর একজন সম্মানিত উম্মত হিসেবে।"
সম্মানিত শিক্ষক এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা শুনলেন। তিনি খুশি হলেন যে এত কম কথায় পার্থক্যটা বলে দিয়েছি।
আমি সর্বশেষ বললাম,"স্যার৷ মুসলিম মানে যে নিজের সব আল্লাহর কাছে সমর্পণ করেছে। আর ইহুদি মানেও যে নিজের সব আল্লাহর কাছে সমর্পণ করেছে।"