আমার ছাত্রজীবনের কথা বলছি। আমি যেন নিজের রাজ্যের রাজা ছিলাম। কেউ কিছু বলার নেই৷ যা ইচ্ছে তাই করি। ইচ্ছে হলে আল্লাহকে স্মরণ করি, না ইচ্ছে না করিনা।
সারাদিন এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াই। রাতে একটা মুভি দেখি। জীবন খুবই উশৃংখলভাবে চলছিলো। কেউ কিছু বলার নেই।
বাবা তো ছোটবেলায়ই মারা গেছেন। তাই একটা বড় সমস্যা হলো আমার কোন অভিভাবক ছিলোনা। কোন গাইড ছিলোনা। কোন কাজটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক এই কথাটা বলার মতো কেউ ছিলোনা।
এর মাঝেই একদিন স্বপ্ন দেখলাম। একজন ব্যক্তি চিতকার করে কান্না করছে একটা কবরের পাশে বসে। তার কাছে গিয়ে দেখি, সে আর কেউ না, আমি নিজেই। আর কান্না করছে আমার কবরের পাশে বসেই।
কিছুক্ষণের মাঝেই ঘুম ভেঙ্গে গেলো। ঘুম ভাঙ্গার পরও আমি কাদছিলাম। কিন্তু আমি শুধরে যাইনি। ফলস্বরূপ এরপরদিন বা কয়েকদিন পরে হবে, আবার একই স্বপ্নটা দেখলাম।
এই ঘটনা আমাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। আমি নামাজ পড়া শুরু করলাম। পুরোদস্তুর ভালো হয়ে গেলাম। জীবনে শৃঙ্খলা নিয়ে আসলাম। যেভাবে চললে আল্লাহ খুশি হন সেভাবেই চলার চেষ্টা করলাম। জীবন সুন্দর হয়ে গেলো।
ছাত্রজীবনে এরপরেও আরো কয়েকবার যখনই আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরে গেছি তখনই এই একই স্বপ্ন দেখে আবার শুধরে গেছি।
এখন হয়ত ওইটা স্বপ্নটা দেখিনা। তবে যখনই জীবনের উল্টাপাল্টা করি বা আল্লাহর অপছন্দের কাজ করি, তখন সাথে সাথেই কোন সমস্যায় পড়ে যাই৷ ছোট অপরাধ করলে ছোট সমস্যা আর বড় অপরাধ করলে বড় সমস্যায় পড়ি।
যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা আসছে আমার জন্য। এই সতর্কবার্তা অনুভব করতে পারি। এ যেন একটা ভালো-মন্দের দিক নির্দেশনা।
আল্লাহ আমাদের ভালোবেসে সৃষ্টি করেছেন। তাই তিনি অবশ্যই চান যেন আমরা ভালো পথে চলি। তাই আমার মনে হয় তিনি সবাইকে সতর্কবার্তা পাঠান। আমাদেরকে তিনি ভালো-মন্দের দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। অনেকেই তা বুঝতে পারেন। আবার হয়ত সবাই বুঝতে পারেনা বা বুঝতে চেষ্টা করেনা।
36
View