সোহেল নতুন চাকরিতে জয়েন করেছে। ভাগ্য ভালো যে, সে চাকরির পোস্টিং নিজের শহরেই পেয়েছে। এখন সে নিজের বাসায় থাকে মা-বাবার সাথে।
সোহেল নিয়মিত মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে। মসজিদের নিয়মিত মুসুল্লি লোকজন তাকে খুব পছন্দ করে। তাকে অনেকদিন ধরেই মসজিদ কমিটির সদস্য হওয়ার জন্য সবাই পীড়াপীড়ি করছিলো।
নিজের পড়াশোনা আর বয়স কম এই কথা বলে সে তাদেরকে না বলে এসেছে। এবার আর না বলতে পারেনি। আসলে মসজিদ কমিটিতে একজন শিক্ষিত-নম্র-ভদ্র-মার্জিত তরুন থাকবে এটা সবাই চায়। সে বাদে কমিটির সবাই তো মুরুব্বি।
পড়াশোনা জানা ছেলে। তাই তাকে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব দেয়া হলো। সেও খুশি। এলাকার মানুষও খুশি।
তবে দায়িত্ব নেয়ার পরদিনই সে ইস্তফা দিয়ে বসে। সবাই তার কাছে এর কারণ জানতে চায়। সে একটু সময় নেয় কারণ বলার জন্য। সে সবাইকে বলে কয়ে মসজিদ কমিটির একটা মিটিং এর আয়োজন করে।
তারপর জানায় যে, মসজিদের চারটা এসির মাসিক বিদুৎ খরচ হয় ষোল হাজার টাকা। মসজিদের মোট বিদ্যুৎ খরচ মাসিক পঁচিশ হাজার টাকা।
অথচ মসজিদের ইমাম সাহেবের মাসিক বেতন আট হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনের বেতন পাচ হাজার টাকা। আর খাদেম, যে ছেলেটা সারাদিন মসজিদের সেবা করে তার বেতন তিন হাজার টাকা।
এই আট হাজার, পাচ হাজার এবং তিন হাজারে বাংলাদেশের কেউ সপরিবারে চলতে পারবেনা। আল্লাহর ঘর মসজিদেই যদি এমন অন্যায্য আচরণ করা হয় তবে তা মেনে নেয়া যায়না। তার কথা একটাই সে এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেনা।
সে আরো জানায় যে, সে ছাত্রজীবনে চারটা ছাত্র পড়িয়ে মাসিক বিশ হাজার টাকা আয় করতো। সেখানে এত কম বেতন দেখে তার মন সায় দিচ্ছেনা এই দায়িত্ব পালনে।
কমিটির সদস্যারা এবং উপস্থিত সবাই সোহেল এর কথায় ভুল খুজে পায়না। তারাও একমত হয় যে, ইমাম সাহেব, মুয়াজ্জিন সাহেব এবং খাদেম সাহেব এর বেতন যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে হবে।
তবে, এর সাথে সোহেল আরো একটা পরামর্শ দেয়৷ মসজিদের পাশে যে মসজিদের নামে কতটুকু ফাকা যায়গা আছে সেখানে তিনটা দোকান বানিয়ে দিতে হবে। উনারা তিনজন সম্পূর্ণ বেতনের উপর নির্ভরশীল না নিজের আয়ের ব্যবস্থাও করতে পারবেন।
ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইমামগণ নিজের জন্য আয়ের ব্যবস্থা করতেন। এখন হয়ত পরিস্থিতি ভিন্ন। তবে তাদের এমন আয়ের ব্যবস্থা থাকলে তা মসজিদের জন্যেও সুনাম বয়ে আনবে।