ইমাম সাহেব বুঝতে পেরেছেন তার চাকরি যাচ্ছে। আসলে ইমাম সাহেব শুক্রবার খুতবায় মসজিদে এমন কিছু কথা বলে ফেলেছেন যা মসজিদ কমিটির কারো ভালো লাগেনি।
চাকরির ভয়ে ইমাম সাহেব হয়ত মসজিদে রাজনীতি নিয়ে কিছুই বলেননা। তবে তিনি মাঝে মাঝে বলে ফেলেন যে ইসলামের দৃষ্টিতে একজন শাসক কেমন হওয়া উচিৎ। তিনি প্রায়ই খুলাফায়ে রাশেদার শাসনকালের উদাহরণ টানেন।
তার এসব কথাবার্তা নিয়ে অনেক আগেই সতর্কবার্তা পেয়েছেন। কিন্তু দীনের কথা বলার সময় তার মনে আল্লাহর ভয় থাকে। তখন যা বলা সঠিক মনে হয় তাই বলেন।
ইমাম সাহেবকে ডেকেছেন সভাপতি সাহেব। সভাপতি শুরুতেই গালাগালি দিতে লাগলেন তাকে। তিনি এই মসজিদে ইমামতির চাকরি না দিলে ইমাম সাহেবকে সপরিবারে না খেয়ে মরতে হতো, পথে ভিক্ষার থালা নিয়ে বসতে হতো। আর তার বিরুদ্ধেই ইমাম সাহেব মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে কথা বলেন।
ইমাম সাহেব চুপ করে শুনছিলেন। প্রতিবাদ করার সাহস নেই। প্রতিবাদ করলে সভাপতি সাহেব গায়ে হাত তুলতেও পারেন। মা-বাবা তুলে গালিও দিতে পারেন।
শুধু মনে মনে বললেন,"রিজিকের মালিক তো আল্লাহ। এই সভাপতি কিভাবে আমাদেরকে খাওয়াতে পারে?
ইমাম মানে তো নেতা। আমি মসজিদে বসে কি বলবো তা যদি আরেকজন বলে দেয় তাহল আর আমি ইমাম রইলাম কোথায়?"
সভাপতি সাহেবের ছেলেও তেড়ে আসে। ইমাম সাহেব না শুধরে গেলে তাকে শিশু ধর্ষণের অপবাদ দিয়ে তাড়ানো হবে।
ইমাম সাহেব পরদিন সকালবেলাতেই ইমামতি হতে ইস্তফা দিলেন। তিনি আজ থেকেই ব্যবসায় শুরু করবেন। প্রয়োজনে সাহাবী হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ এর মতো সামান্য কিছু পুজি নিয়ে ব্যবসায় লেগে যাবেন। আল্লাহর বরকত আসলে আর কিছুই লাগবেনা।
ইমাম সাহেব কেন সকলের রিজিকের মালিক আল্লাহ, ওই মসজিদ কমিটি নয়। এমনকি ওই মসজিদ কমিটির রিজিকের মালিকও আল্লাহ। ইমাম সাহেবকে যারা চাকর মনে করে তারা মুর্খ। যারা ইমাম সাহেবকে দিয়ে বাজার করাতে চায় তারা বুঝেনা কাকে তারা অসম্মান করছে।
27
View