রাজিব কবিরের পাশে বসে আফসোস করছে। তাদের আরেক বন্ধু সুমনের বিয়ে হচ্ছে, অথচ সেখানে তাদের দাওয়াত দেয়নি। সুমনের বিয়ে খাওয়া হলোনা রাজিবের৷
কবির তার ভুল ধরিয়ে দেয়। ওটা বিয়ে খাওয়া নয়, বিয়ের দাওয়াত খাওয়া।
কবির বলে উঠলো,"কিরে ভাই। বিয়ের দাওয়াত খাওয়ার জন্য এমন পাগল হওয়ার কি আছে? তোদের জন্যেই আজকাল বিয়ে করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।"
রাজিব বললো,"বন্ধুর বিয়ে খাবোনা? এটা কেমন কথা? আমি আবার কিভাবে বিয়ে কঠিন করে ফেললাম?"
কবির বললো,"আমি খেয়াল করেছি। তুই মানুষের বিয়ের দাওয়াত খাওয়ার জন্য এক রকম পাগল হয়ে থাকিস। কিন্তু একজন ব্যক্তি কি সমাজের সবাইকে দাওয়াত দিয়ে কুলোতে পারবে?"
রাজিব বললো,"আরে ভাই। বন্ধুদের রেখে কেউ বিয়ে করে?"
কবির বললো,"তুই বুঝতে পারছিস না। সুমন আর্থিকভাবে এত শক্ত অবস্থানে নেই। তোকে দাওয়াত দিলে আমাকেও দিতে হতো। আরো অনেককে দিতে হিতো৷ সে কিভাবে কুলোতে পারতো?"
রাজিব বুঝতে পেরেছে৷ সে বললো,"তুই অবশ্য বন্ধু সত্য কথাটাই বলেছিস।"
কবির বললো,"আমি খেয়াল করেছি৷ তোর মতো আরো কিছু লোক আছে সমাজে। কেউ বিয়ে করেছে শুনলেই কেন খাওয়ায়নি সে খোটা দেয়। এই কারণেই অনেক ছেলে বিয়ে করতে দেরি করে। কারণ মানুষ খাওয়ানোর জন্য তো টাকা লাগে।
ইসলাম বিয়েকে সহজ করেছে৷ আর আমরা বিয়েকে কঠিন করে ফেলেছি। ফলে অনেক ছেলে বিয়ের উপযুক্ত কারণ থাকার পরেও বিয়ে করতে পারছেনা বা দেরি করছে। ফলস্বরূপ সমাজে জিনা-ব্যভিচার বেড়ে যাচ্ছে।
অথচ আমাদের উচিত, কেউ বিয়ে করলে তাকে সাহায্য করা, তার পাশে দাঁড়ানো। আর কিছু লোক বসে থাকে তার কাছ থেকে ট্রিট নেওয়ার জন্য, দাওয়াত খাওয়ার জন্য।"
রাজিব কবিরের কথা শুনে একটু কষ্ট পেলেও নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছে। সে ঘটনাটিকে নিয়ে এভাবে ভাবেনি। তাই বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কবিরকে ধন্যবাদ দেয়। সে নিয়ত করে যে, ভবিষ্যতে কেউ বিয়ের দাওয়াত না দিলে তাকে আর খোটা দিবেনা।
সে কবিরকে মজার ছলে বলে,"কিন্তু দোস্ত। তোর বিয়েতে দাওয়াত না দিলে সারাজীবন খোটা দিয়ে যাবো!"
20
View