বিয়ের দাওয়াতে মানা করা কঠিন। তাও আবার খুব কাছের বন্ধুর বিয়ের দাওয়াত। আমি আবার এসব হাঙ্গামা পছন্দ করিনা।
কি আর করা! বিশাল হাঙ্গামা করে আমরা বর নিয়ে কনের বাড়িতে গেলাম। যেতে যেতে বিকাল হয়ে যায়, তাই কনে পক্ষ সবাইকে আগে খেয়ে নিতে বলে।
সবাই খেয়ে নিলেও বর আর তার সাথে কয়েকজন খায়নি৷ তবে আমি ক্ষুধা ধরে রাখতে পারিনা বলে মুরুব্বিদের সাথে খেয়ে নিলাম।
একদম সন্ধ্যা বেলায় বিয়ে পড়ানো হয়। সমস্যা বেধে যায় মোহরানা ঠিক করার সময়। ছেলে ছোট একটা চাকরি করে। আমি ছেলে পক্ষের লোক। তাই ছেলের সামর্থ্য অনুযায়ী মোহরানা ঠিক করার জন্য অনুরোধ জানাই৷
কিন্তু মেয়ের বাবা আর বড় ভাই কিছু হাস্যকর যুক্তি সামনে নিয়ে আসে। মেয়েরা তিন বোন। প্রথম দুই বোনের কারো বিয়ের মোহরানা সাত লাখ। তাই তৃতীয় বোনের ক্ষেত্রে সেটা সাত লাখের উপরেই থাকতে হবে। প্রয়োজনে বিয়ে ভেঙ্গে যাবে, কিন্তু মোহরানা কমানো যাবেনা।
আবার ছেলের বাবাও পাচ লাখের উপরে যাবেন না। মনে হচ্ছিলো, যেন বাজারে কোন কিছু কেনা-বেচা চলছে। দামাদামি হচ্ছে।
এটা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হলো। কিন্তু কে শুনে কার কথা। মেয়ে পক্ষের একটাই কথা, তাদের স্ট্যাটাস ধরে রাখতে হবে।
আমাদের মাঝে একজন বলে উঠলো,"আপনারা সুন্নতের মাঝে থাকার চেষ্টা করেন। ছেলের সামর্থ্যটাও আমলে নেন।"
অপরদিকে মেয়ের বড় ভাই বলে উঠে,"আমরা সুন্নতের মাঝে নেই।"
এমন মুর্খ মানুষের সাথে কে যাবে তর্ক করতে? যেসব ব্যক্তি সুন্নতকে অগ্রাহ্য করে তাদের সাথে আর যাইহোক তর্ক করে লাভ হবেনা৷
ফলও তাই হলো। অবশেষে মেয়ে পক্ষ তাদের স্ট্যাটাস ধরে রাখলো। তাদের দাবিই মেনে নেওয়া হলো।
19
View