মামুন অত্যন্ত ধার্মিক ছেলে। খুবই একরোখা কিন্তু ভালো ছেলে। ইসলামের বিধি বিধান মানার ব্যাপারে সে খবুই সচেতন।
তো মামুন তার বন্ধু সাইদের বিয়ের দাওয়াতে গিয়েছে। সে নতুন চাকরি পেয়েছে, পকেটে টাকাও আছে ভালো। বিয়ের উপহার হিসেবে সে দামি একটা শাড়ি কিনে নিয়েছে সাথে করে। এর বাইরে টাকাও উপহার দিবে।
বিয়ের দাওয়াতের আয়োজন হয়েছে একটি কমিউনিটি সেন্টারে। এটা শুনেই তার বিয়েতে যাওয়ার সাধ মিটে গেছে। তারপরও দাওয়াত রক্ষার্থে সে কমিউনিটি সেন্টারে গেলো।
সেন্টারের বাইরে অনেক অভুক্ত মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। এটা মামুনকে ব্যতীত করে। ভিতরে গিয়ে দেখে খাওয়া দাওয়া চলছে।
বর-কনেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে স্টেজে। সবাই গিয়ে বর-কনের ছবি তুলছে। এসব লোক দেখানো কাজ মামুনের একদম ভালো লাগেনা। তাই সে খেতে গেলো।
কি যেন মনে হলো মামুনের, সে তার আশেপাশের সবার দিকে তাকালো। তারপর সাইদের বাবার কাছে গিয়ে বসলো। মুরুব্বিকে সালাম দিয়ে জানতে চাইলো, বাইরে যে গরিব মানুষেরা বসে আছে তাদেরকে কখন খাওয়ানো হবে।
মুরুব্বি সাফ জানিয়ে দিলেন, যে তার সকল মেহমান তালিকাভুক্ত। তালিকার বাইরে বা দাওয়াতের বাইরে কেউ খেতে পারবেনা। অর্থাৎ গরিবদের জন্য কিছুই ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
মামুন অত্যন্ত কষ্ট পেলো। আসতে করে মুরুব্বির কানের কাছে গিয়ে বললো,"আংকেল। যে খাবারে গরিবের অংশ নেই, সে খাবার আমি খাবোনা।"
কথাটা বলে সে উঠে চলে গেলো। মুরুব্বি হা করে মামুনের দিকে তাকিয়ে রইলো।
তারপর ক্যামেরাওয়ালাদের ভিড় ঠেলে বর সাইদের কাছে গিয়ে তাকেও কানে কানে একই কথা বলে চলে গেলো৷
যাওয়ার সময় সাথে আনা উপহারের প্যাকেটটিও নিয়ে নিলো। সবাই তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। সাইদও কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো।
কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে খাবারের জন্য অপেক্ষা করা কোন এক অভাবীর হাতে সে প্যাকেটটি ধরিয়ে দিয়ে বাসায় চলে গেলো।
20
View