ইব্রাহিম আ: আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় বান্দা ছিলেন। তিনি বর্তমান ইরাকে বসবাস করতেন। তার দুটি সংসার ছিলো। তার দ্বিতীয় স্ত্রী হযরত হাজার আ: এর ঘরে তার প্রথম সন্তান হযরত ইসমাইল আ: জন্মগ্রহণ করেন। অপরদিকে, প্রথম স্ত্রী সারার ঘরে দ্বিতীয় সন্তান হযরত ইসহাক আ: জন্মগ্রহণ করেন।
হযরত হাজার আ: এবং ইসমাইল আ: কে তিনি আরবের মরুভূমিতে রেখে আসেন। সেখানে হযরত ইসমাইল আ: বড় হন এবং বিয়ে করে সংসারী হন। তিনিও আল্লাহর একজন নবী ছিলেন। তার বংশেই আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: জন্মগ্রহণ করেন।
অপরদিকে হযরত ইসহাক আ: এর পুত্র ইয়াকুব আ:। তার অপর নাম ইসরায়েল যার অর্থ হলো আল্লাহর বান্দা। অনেকটা মুসলিম বা মুসলমান কথাটির সাথে মিল আছে। তার বংধরদেরকে বলা হয় বনী ইসরায়েল।
ইয়াকুব আ: এর এক পুত্রের নাম ছিলো ইয়াহুদা যার থেকে ইয়াহুদী নামটি এসেছে। ইয়াহুদী মানে যে নিজের সব আল্লাহর কাছে সমর্পণ করেছে। এই কথাটিও মুসলিম বা মুসলমান কথার সাথে মিল আছে।
বনী ইসরায়েল এর কাছে অনেক নবী-রাসুল এসেছে। তাদের অনেককে তারা মেনে নিয়েছে। আবার অনেকের সাথে তারা অহংকারবশত অবাধ্যতা করেছে। আল্লাহও তাদেরকে নানাভাবে শাস্তি দিয়েছেন। কখনো কখনো আল্লাহর ইচ্ছায় অন্য কোন জাতি এসে তাদেরকে তাদের ভূমি থেকে বিতারিত করেছে।
তারা অনেক নবী-রাসুলকে হত্যাও করেছে। এমনকি হযরত ইসা আ: কেও হত্যার চেষ্টা করেছে। তাদেরকে আল্লাহ এই জন্য তাদের ভূমি থেকে বিতারিত করেন। পরবর্তীতে শাস্তি পেয়ে তওবা করে।
কিন্তু এবারো তারা তাদের ওয়াদা রাখেনি। তারা সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সা: কে মেনে নেয়নি৷ তারা তাদের বংশের বাইরের মানুষকে মানুষই মনে করেনা, নবী হিসেবে মেনে নেয়া তো পরের কথা। তাদের বাইরের মানুষকে তারা জেন্টাইল বলে ডাকে। এমনকি জেন্টাইলদেরকে তারা পশুপাখির মতো মনে করে।
আল্লাহর প্রতি এবং তার হুকুমের প্রতি অবাধ্যতার ফলেই তাদেরকে নানা শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।
ইহুদি, খ্রিস্টান এবং ইসলামের গোড়ায় আছেন হযরত ইব্রাহিম আ:৷ আরো পিছনে গেলে সেটা হযরত আদম আ: এর কাছে গিয়ে ঠেকবে।
ইসা আ: এসেছিলেন শুধু বনী ইসরায়েল এর কাছে। তবে তিনি তাদের জন্য মুসা আ: মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাসুল ছিলেন। কিন্তু তারা তাকে গ্রহণ করেনি, উলটো তার মায়ের চরিত্রের উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: কোন নির্দিষ্ট জাতি গোষ্ঠীর জন্যে বা জাতির জন্যে আসেননি। তিনি কিয়ামত পর্যন্ত আগত এবং আসন্ন সকলের জন্য রহমতস্বরূপ। তিনি মানব জাতির মুক্তির জন্যে এসেছিলেন। তার মাধ্যমে আমরা পেয়েছে মহাগ্রন্থ আল কোরান, যে গ্রন্থের মাধ্যমে আল্লাহ তার বান্দাদের সাথে কথা বলেন।
17
View