আমার এক মামাতো ভাই ছিলো, মারা গেছে। কম বয়সে বিয়ে করেছিলো। তার বউ দেখতে কালো ছিলো। তবে প্রতিদিন নিয়ম করে ওরা ঝগড়া লাগতো। মনে হতো, এই বুঝি আজকেই ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবে।
তাকে এটা একদিন নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। কেন বউ ছেড়ে দেয়না, এমন প্রশ্ন। সে জবাব দিয়েছিলো,"আমার কাছে সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী। আমার চোখ দুটো যদি তোমার চোখের স্থানে থাকতো তাহলে বুঝতে পারতে সে কতটুকু সুন্দরী।"
আগে অনেক কালো মেয়ে দেখে বা কুতসিত চেহারার কাউকে দেখে ভাবতাম, "এই মেয়ের স্বামী একে কি দেখে বিয়ে করেছে? বা লোকের বউ কি দেখে তার সংসার করে?"
আমার ভুল ভেঙ্গেছে। প্রতিটি মানুষের মাঝে স্থিত গোপন সৌন্দর্য তার কাছের কেউ ছাড়া আবিস্কার করতে পারেনা। আর সেটাই তার প্রকৃত সৌন্দর্য, যা সময় গেলেও নষ্ট হয়ে যাবেনা। আল্লাহর সৃষ্ট প্রতিটি মানুষই সুন্দর। তবে যে তা অনুভব করতে পারে, তার কাছে পৃথিবীর সবকিছু সুন্দর। সেই সবচেয়ে সুখী মানুষ।
জাপানের মেয়েরা মারাত্মক সুন্দর। তারা ইউরোপীয়ানদের মতো ফ্যাকাসে না। ইউরোপীয়রা আমার চোখে কেমন যেন ধবল রোগীর মতো।কিন্তু জাপানিরা সাদা এবং আকর্ষণীয়। হতে পারে তারাও আমার মতো এশীয় বলে তাদেরকে আমার চোখে খারাপ লাগেনা।
আমি তাদের সৌন্দর্য মনোযোগ দিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি। এটি আমি আগেও করেছি। স্কুল-কলেজ-ভার্সিটির সুন্দরীদের সৌন্দর্য মনোযোগ দিয়ে দেখেছি (নাউজুবিল্লাহ), যদিও আমার উদ্দেশ্য খারাপ ছিলোনা। তবে সবারই কিছু অসুন্দর দিক থাকে।
সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটা যখন রেগে যায় তখন সে আমার চোখে দেখতে সবচেয়ে অসুন্দরী। সে যখন ধোকা দেয় বা মিথ্যা বলে তখন সে চেহারা আর সবচেয়ে সুন্দর থাকেনা।
তার মানে সুন্দরের মাঝেও অসুন্দর কিছু থাকে। জাপানিরা এত সুন্দর হলেও কেন যেন আমাকে আকর্ষণ করেনা৷ তাদের এত সৌন্দর্যের মাঝেও কিসের যেন কি একটা কমতি আছে বলে মনে হয়।
আমার বন্ধুদের মাঝে সুন্দর চেহারা এবং আমার মতো অসুন্দর মানুষও ছিলো। অসুন্দর মানুষের মাঝেও সুন্দর কিছু খুজে পাওয়া যায়। আবার মানুষের সুন্দর চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অসুন্দর বেরিয়ে আসতেও সময় নেয়না।
তাই শুধু সাদা চামড়া দেখেই মানুষকে বিচার করা বোকামি।
17
View