কামালের বন্ধু সুজনের একটু খারাপ দিনকাল যাচ্ছে। সংসারে একটু অশান্তিই বটে। তার বড় ছেলেটা কেমন যেন উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠছে দিনকে দিন।
আজকাল বাসায় গিয়েও শান্তি পাচ্ছেনা। স্ত্রীর সাথেও বনিবনা হচ্ছেনা। কথায় কথায় ঝগড়া লেগেই আছে। তাই মাঝে কামালের সাথে আড্ডা দিতে আসে। আড্ডা দিলে মনটা একটু হালকা হয়।
কামাল বললো,"দোস্ত। তুই তোর সমস্যার কথা আমাকে না বলে আল্লাহকে বল৷ নামাজ পড়ে দোয়া কর৷ ঠিক হয়ে যাবে।
আর ফ্যামিলিকে সময় দে। ওদেরকে নিয়ে কোথাও থেকে ঘুরে আয়। তুই তো চাকরির পেছনে ছুটে ফ্যামিলিকে সময় দিসনা। এই জন্যেই এই দূরত্ব। কোথাও বেড়াতে গেলে, ওরাও তোকে কাছে পেলে খুশি হবে।"
সুজন বললো,"ছেলেটা একদম কথা শুনেনা৷ তাকে কিভাবে মানুষ করবো?"
কামাল বললো,"ওর সাথে কথা বল। ওকে নিয়ে কোন রেস্টুরেন্টে খেতে বসে গল্প কর। তার মনের মধ্যে কি আছে সেটা বের কর। তুই দেখছিস সে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এর পেছনের কারণ খোজার চেষ্টা কর।
আর আল্লাহর কাছে দোয়া কর। সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়া আল্লাহ অত্যন্ত দ্রুত কবুল করেন।"
সুজন জিজ্ঞেস করলো,"তোর ফ্যামিলিতে কোন সমস্যা নেই কেন? তুই কিভাবে এত শান্তিতে আছিস?"
কামাল উত্তর দিলো,"খুব সহজ। আমি ওদেরকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করি৷ আর আল্লাহর কাছে দোয়া করি। এর বাইরে ছোটখাটো সমস্যা সব পরিবারেই হয়। এসব আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলেই শান্তি।"
এরপর কামাল সুজনকে বিশেষ একটি সুন্দর দোয়ার কথা বলে। কোরানের সুরা ফুরকানের ৭৪নং আয়াতে আল্লাহ খুব সুন্দর একটি দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন আমাদেরকে।
দোয়াটির বাংলা উচ্চারণ: "রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ'য়ুনিন ওয়াজ'আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।"
অর্থ: "হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্য থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা (আনন্দ) দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ/নেতা বানান।"
13
View