আরিফ খেয়াল করলো তার ছেলে শরিফ আজকাল একটু অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছে। সব সময় কেমন যেন নিজের মধ্যে থাকেনা সে, কোথায় যেন হারিয়ে গেছে, এমন একটা ভাব। সে নবম শ্রেণির ছাত্র।
শরিফের বন্ধুদের সাথে কথা বলে জানতে পারলো যে, সম্প্রতি তাদের স্কুলে নতুন একটা মেয়ে ভর্তি হয়েছে। প্রথম দেখার পর থেকেই তার ছেলে এমন হয়ে গেছে। আরিফ বুঝতে পারলো, ছেলের স্কুল বদলাতে হবে।
রাতে খেতে বসে ছেলেকে জিজ্ঞেস করলো বিষয়টি নিয়ে৷ বাবা সবকিছু জেনে গেছে দেখে সে সবই স্বীকার করলো। সে আসলেই মেয়েটাকে পছন্দ করে। আজকাল এই কারণে সে পড়াশোনা করতে পারছেনা। মেয়েটাও জানে। কিন্তু হা বা না কিছু না বলে তাকে ঝুলিয়ে রেখেছে।
আরিফ জিজ্ঞেস করলো,"তুই কি নিজেকে জিজ্ঞেস করেছিস যে তুই কি চাস?"
শরিফ উত্তর দিলো,"আমি নিজেও বুঝতে পারছিনা আমি কি চাই৷ কিন্তু মেয়েটিকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেও কাজ হয়নি৷ প্রতিদিন তার সাথে দেখা হয়ে যায়।"
আরিফ বললো,"তুই মেয়েটির সৌন্দর্য দেখে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েছিস। এই বয়সে এমনটা হতেই পারে। কিন্তু এটা ভয়ংকর পর্যায়ে চলে যেতে পারে। ভালো যে, মেয়েটা রাজি না। তুই এটাকে প্রেম-ভালোবাসা মনে করিস না৷ প্রেম করতে হলে দুইজন রাজি থাকতে হয়৷ এখানে তুই একাই মোহের জাদুর মধ্যে পড়েছিস।
তোকে এখনই স্কুল বদলাতে হবে। ওই মেয়েকে দেখলে তোর ক্ষতিই হবে৷ কয়েকদিন না দেখলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
মোহ খুব খারাপ জিনিস। তুই এখনো ছোট মানুষ, চাইলেই বিয়ে করিয়ে দিতে পারবোনা। পড়াশোনা করে আগে নিজের পায়ে দাড়া, তারপর বিয়ে করিয়ে দিবো।"
শরিফ বললো,"কিন্তু ওকে দেখার পর আর পড়াশোনা হচ্ছেনা৷ মনোযোগ আসছেনা।"
আরিফ বললো,"কালই তোর স্কুল বদলে ফেলবো। আর সামনের পরীক্ষায় যদি ভালো করিস, তবে তোর পছন্দের ঘটি উপহার দিবো।
এরপরের পরীক্ষায় ভালো করলে তোর পছন্দের জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যাবো।
এভাবে প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য আলাদা উপহার থাকবে তোর জন্য। আশা করি, ভালো রেজাল্ট করার জন্য এটা তোকে উৎসাহ দিবে।"
12
View