আমি ছোটবেলা থেকেই লেখার প্রতি কিছুটা আগ্রহী ছিলাম। টুকটাক লিখেছিও বটে, আবার ছিড়ে ফেলে দিয়েছি। তবে ইদানীং লেখালেখি শুরু করার পর নিজের মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ করেছি।
যখনই মাথায় কোন আইডিয়া আসে তখনই তা লিখতে হয়। অথবা আইডিয়াটা টুকে রাখতে হয়। কিছু কিছু সময় লেখার জন্য হাত নিশপিশ করে। কাপের চা কখন ঠান্ডা হয়ে সরবত হয়ে তার খেয়াল থাকেনা। মনে হয় লেখার জন্য নেশা হয়ে গেছে। শুনেছি লালন ফকিরেরও এমন হয়েছিলো৷
এটা নিয়ে এআই কে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম, এমনটা তাদেরই হয় যারা কোন সৃজনশীল কাজ করে। এটাকে বলে Creative High।
এমন মানসিক অবস্থাকে আমি টয়লেটে যাওয়ার চাপের সাথে তুলনা করি। কারণ ওই সময়টা আর কিছুই মাথায় কাজ করেনা। এটা যে কোন সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে হতে পারে। এভাবেই পৃথিবীতে নতুন আইডিয়ার জন্ম নেয়। এভাবেই আসে বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব।
এসময় মানুষ অসম্ভবকে সম্ভবে পরিনত করে। সাধারণ একটা আইডিয়া মানব মস্তিষ্কে অসাধারণ হয়ে ধরা দেয়। সাধারণ কথাগুলো ছন্দোবদ্ধ হয়ে কবিতার রূপ নেয়। আবার সাধারণ কিছু কথা কত শত মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করে৷
তবে আরো একটা জিনিস খেয়াল করেছি। লেখাটা শেষ করার পর আধা ঘণ্টা বা বিশ মিনিট আমার মাথা আর কোন কাজ করেনা। মনে হয় মাথা একদম খালি হয়ে গেছে। এআই কে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম এটা হলো Creative Exhaustion।।
লেখক হুমায়ুন আহমেদ কোন উপন্যাস লিখে শেষ করাকে সন্তান জন্মদানের সাথে তুলনা করেছেন। এটা সবাই বুঝবেনা। যারা কোন সৃজনশীল কাজ করেন তারাই বুঝবেন।
তবে আমি বিশ্বাস করি, সবার মাঝেই সৃজনশীলতা আছে। নতুন কিছু করার একটা তাড়না থাকে সবার। নিজের মধ্যে থাকা সেই অপার সম্ভাবনাকে সবাই কাজে লাগায় না৷
সবার হাতে হয়ত এত কিছু করার মতো সময়ও থাকেনা।
আমি মনে করি, সবারই নিজের প্রতি সুবিচার করা উচিৎ। নিজের মধ্যে থাকা সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা উচিৎ।