রমজানের পর এলো শাওয়াল মাস। শাওয়াল মাসের ছয় রোজা রাখা শুরু করলাম। মসজিদেও ঘোষণা দেওয়া আছে যে মাগরিবের আজানের পনেরো মিনিট পর নামাজ হবে। এই সময়টা ইফতারের জন্য বরাদ্দকৃত।
ইফতারে আমি শুধু পানি পান করে চলে গেলাম মসজিদে। নামাজ পড়ে রাতের খাবার খেয়ে ফলবো আরকি।
বসে থাকতে থাকতে মনে হলো, "বসে না থেকে দুই রাকাত নামাজ পড়ে নিই।" তারপর দাড়িয়ে গেলাম দুই রাকাত নামাজে।
নামাজ পড়ে সালাম ফেরাতেই একজন এসে বললো,"ভাই। আমরা এই তাহিয়াতুল ওজু বা তাহিয়াতুল মসজিদ নামাজ পড়িনা।"
আমি বললাম,"কেন?"
তিনি উত্তর দিলেন,"এই নামাজ আমরা সুন্নি-হানাফিরা পড়িনা।"
মাথায় আগুন উঠে গেলো। ইচ্ছে হচ্ছিলো, জিজ্ঞেস করি যে কে উনাকে বলেছে, আমি একজন সুন্নি-হানাফি। আসলেও আমি একজন সুন্নি-হানাফি। তার আর বলিনি কিছুই। তবে আমি নিজেকে আহলে হাদিসও মনে করি, যেহেতু হাদিস মানি, তাই।
মাগরিবের নামাজের পর ইমাম সাহেবের কাছে গিয়ে বসলাম। উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, আমি হাতে সময় থাকলে মাগরিবের নামাজের আগে দুই রাকাত নামাজ পড়তে পারি কি-না।
ইমাম সাহেব বললেন, হাতে সময় থাকলে অবশ্যই পড়তে পারবো। ইমাম সাহেবও সুন্নি-হানাফি। সুতরাং উনার কথা মানতে কারো সমস্যা হওয়ার কথা না।
এখন মনে মনে রাগ হলেও কি আর করা যাবে? এই লোকগুলোকে কে বুঝাবে? নিজের সামান্য জ্ঞানের পুজি নিয়ে আরেকজনের ভুল ধরে।
এই ভাই এর কথা শুনলে মানুষ ভুল ইসলাম সম্পর্কে জানবে। সেটা ভালো ফলাফল আনবেনা।