বন্ধু সুমনের সাথে পরিচয় হয়েছিলো সেই ছাত্রজীবনে। তারপর লম্বা একটা সময় তাকে খুজেছি৷ এখন তো আমাকে দেখে কেবল হুজুর বলে ডাকে।
সে আবার খুবই রাজনীতি সচেতন মানুষ। সে জানতে আমার কাছে ইসলামের সাথে গণতন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাইলো।
প্রথম এইসব বিষয়ে কথা না বলতে চাইলেও পরে ওর চাপাচাপিতে কিছুটা বাধ্য হলাম।
বিভিন্ন আলেমের বক্তব্য শুনে যতটুকু বুঝতে পেরেছি তাই ওকে জানালাম।
বললাম,"আমি যতটুকু বুঝি, গণতন্ত্রের সবকিছুই ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। বরং কিছু জিনিস ইসলামের সাথে সামঞ্জস্য আছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, ক্ষমতার উতস। গণতন্ত্র বলে, সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। আর আমরা তো জানিই যে, ইসলাম অনুযায়ী সকল ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ।
গণতন্ত্রে সবার সমান ভোট দেওয়ার ক্ষমতা থাকে। অপরদিকে আমার জানামতে ইসলামে শাসক নির্বাচনে ভোট কিছু যোগ্য ব্যক্তিই দিতে পারেন। আসলে অনেক সাধারণ মানুষের মাঝে এই ভোট যোগ্য ব্যক্তিকে দেওয়ার মতো বুঝ থাকেনা।
ফলে ভুল ব্যক্তিরা শাসক হিসেবে নির্বাচিত হয় এবং শাসনের বদলে শোষণ করতে শুরু করে।"
সুমন বললো,"কিন্তু বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র আর ইসলামের মাঝে একটা দ্বন্দ্ব লক্ষ করা যায়। সেটার কি বলবা?"
উত্তরে বললাম,"এটা সত্য কথা, দ্বন্দ্ব তো থাকবেই। ইসলাম মানুষকে স্বাধীনতা দিলেও সকলের উপকারের জন্য কিছু নিয়ম-নীতি দিয়েছে যা আল্লাহ প্রদত্ত।
অপরদিকে গণতন্ত্র প্রদান করেছে কতগুলো মানব সৃষ্ট নিয়ম-নীত। এসব সর্বজনীন না হলেও সবার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।
তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে গণতন্ত্র ভালো কাজেও লাগে বটে। যেমন, ভারতের উগ্র হিন্দুরা যখন কোন মুসলমানের উপর অত্যাচার করে তখন সে গণতন্ত্রের কথা বলে।
অর্থাৎ যেখানে মুসলিমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছে, সেখানে তারা নিরাপত্তার জন্য গণতন্ত্রের দোহাই দিতে পারে।"
সুমন জিজ্ঞেস করলো,"ভোট দেওয়া নিয়ে বলো?"
বললাম,"আমি ভালো মানুষকে ভোট না দিলে তো কোন খারাপ মানুষ নির্বাচিত হবে।
আর এমনিতেও একজন খারাপ মানুষকে নির্বাচিত করার আগে আমার বিবেককে কাজে লাগানো উচিৎ।
আমাদের সবাইকে তো আল্লাহর সামনে দাড়াতে হবে, তাইনা?
আল্লাহ কি ভোটদাতাকে প্রশ্ন করবেন না? যে কেন সে ভালো মানুষ রেখে ইসলামবিরোধী কাউকে নির্বাচিত করেছে?"