বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা। আমরা কয়েকজন চাকরিজীবী একটা ভাড়া বাসায় থাকি। সবার জন্য আলাদা রুম। শুরুর দিকে সবাই নামাজ পড়তো।
তো আমি খেয়াল করলাম, কিছুদিন যাবত আমাদের সিনিয়র তাজুল ভাই নামাজ পড়েন না।
একদিন তো নামাজের ওয়াক্ত হলে উনাকে বলেই ফেললাম,"ভাই। আজকাল তো আপনাকে নামাজ পড়তেই দেখিনা।
আসেন ভাই। জামাতের সাথে নামাজ পড়ি।"
তাজুল ভাই কিছু না বলে একটা রহসময় হাসি দিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি আমার সাথে একটা ভিডিও শেয়ার করলেন।
ভিডিওতে একজন ভদ্রলোক বুঝাতে চেষ্টা করছেন অনেক কিছুই। আমরা যে প্রচলিত নামাজ পড়ি তা নাকি কোরানের শিখানো নামাজ না৷
পরে আরেকটু পড়াশোনা করে জানতে পারলাম, এরা হচ্ছে আহলে কোরান। এরা হাদিস অস্বীকার করে। এদের কথা হলো, কোরান স্বয়ংসম্পূর্ণ, হাদিস লাগবেনা। হাদিস নাকি মানুষের লেখা।
তারপর একদিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে এদের একজনের ডিবেট হয়, অনেক নাকানিচুবানি খায়।
আব্বাসী হুজুরও এদেরকে নাকানিচুবানি খাওয়াইছেন।
তবে আমি লক্ষ করেছি, এদেরকে অনেক জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিরা ফলো করে। এরপর তারা নামাজসহ ইসলামের ইবাদতসমূহ হতে সরে যায়। কখনো আবার নামাজকে বিকৃত করে যার কোরান বা হাদিসের সাথে কোন মিল থাকেনা।
এদের একজন নবীজি সা: এর একটি সহীহ হাদিস শোনালো।
হাদিসটি এমন,"তোমরা আমার নামে মিথ্যা বলবে না; কারণ যে ব্যক্তি আমার নামে মিথ্যা বলবে তাকে জাহান্নামে যেতে হবে।’’
আহলে কোরানরা এই হাদিসটি আবার মানে। সব হাদিস বাদ দিয়ে একটা হাদিস মানা বড্ড হাস্যকর।
তাদের যুক্তি হাদিস মানুষ লিখিত, আর তা নবীজি সা: এর মৃত্যুর পর লেখা হয়েছে। তাই তারা হাদিস মানবেনা।
তারা বুঝতে চায়না যে, হাদিস কোরান দুটোই আমরা নবীজি সা: এর মাধ্যমে পেয়েছি।
তারা এটাও বুঝতে চায়না যে হাদিসের ভিত্তি এবং শুদ্ধতা অত্যন্ত সূক্ষ্ম উপায়ে নিরুপন করা হয়।
প্রায় সকল আলেম একমত যে, হাদিস এবং কোরান দুটোই আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে। একটি সরাসরি আল্লাহর বাণী। অপরটি নবীজি সা: এর ভাষায় এবং কাজেকর্মে আল্লাহর নির্দেশের বহি:প্রকাশ।
নবীজি সা: এর জীবন ছিল কোরান এর বহি:প্রকাশ।
আল্লাহ সুরা আন নজমে বলেন, "তিনি (নবী) নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কথা বলেন না; তা তো কেবল এক ওহী যা প্রত্যাদেশ করা হয়"