Posts

ভ্রমণ

বুরসা থেকে ফেরার পথে

January 25, 2026

সাজিদ রহমান

6
View

ইস্তাম্বুল টুরের ২য় দিন ছিলো বুরসা ঘুরে দেখা। বুরসা ছিলো অটোমান সাম্রাজ্যের ১ম রাজধানী। পাহাড়ি পথ বেয়ে ওঠার সময় নিচে বুরসা শহর ও সংলগ্ন সাগর দেখছি। চোখের মন ভরে উঠছে। ২ দফা Cable car এ উঠলাম। এই ভ্রমন সুইজারল্যান্ডের মাউন্ট তিতলিজের চেয়ে কম সুন্দর নয়।

বুরসার অন্যতম আকর্ষন Inkaya Cinari নামক ৬০০ বছর বয়সী একটা গাছ (ছবি কমেন্টে)। আমাদেরকে সেটার নিচে ছেড়ে দেয়া হয়। আনন্দে হুটোপুটি খেয়ে ছুটে বেড়াই।

বুরসা যওয়ার সময় ওসমান গাজী সেতু হয়ে যাই। সেতুটি ইজমির উপসাগরের উপরে নির্মিত। ওসমান গাজী অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। ফেরার সময় বাস ফেরিতে উঠেছে।

আমাদের দেশে সেতু হয়ে গেলে ফেরি বন্ধ করে দিই। নতুন সেতু (২০১৬ নির্মিত) হওয়ার পরেও কেন ফেরি চালু এবং বাস কেন ফেরি হয়ে ফিরছে জানার চেষ্টা করলাম।

সহজ উত্তর। সেতুর চেয়ে ফেরির টোল কম। কোন কারনে সেতুতে চলাচল বন্ধ হলে ফেরি বিকল্প হিসেবে টিকে থাকলো। ফেরির টোল কম রেখে সেতুর আয়ুও বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

সারা দিন শেষে আমরা সবাই ক্লান্ত। ইজমির উপসাগরে ফেরির উপর নির্মল বাতাস সেটা ভুলিয়ে দিচ্ছে। সময় বেশি লাগলেও ফেরি যাত্রা টুরিস্টদের কাছে ভিন্ন আমেজ বয়ে আনছে।

বেশ বড় ফেরি। সেটা ঘুরে দেখছি। আশপাশের দৃশ্যাবলী চোখ ধাধিয়ে দিচ্ছে। সন্ধা হয়ে এসেছে। পাশেই ওসমান গাজী ঝুলন্ত সেতু। সেতুর উপর দিয়ে আলো ফেলে ফেলে ( যেন আলোর যাত্রী হয়ে) ছুটে চলেছে হরেক রকমের যান বাহন। পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে অন্য ফেরি।

ফেরির উপর বেশ ঠান্ডা। কফি নিয়ে চুমুক দিচ্ছি। একপাশের রেলিং এ ঠেস দিয়ে। এক লোক এলেন, সাথে ছোট একটা শিশু। সম্ভবত লোকটার ছেলে হবে। ডেকের উপর দুজনই সারি হয়ে দাড়ালেন। নামাজের জন্য নিয়াত বাধলেন। মনে পড়লো মাগরিবের ওয়াক্ত চলছে। লোকটা জোরে জোরে সূরা তিলাওয়াত করছেন।

সারাদিন অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখেছি। খেয়েছি। উপভোগ করেছি। এরচেয়েও বেশি আলোড়ন তুলল ছোট শিশু সন্তানকে নিয়ে নামাজ পড়ার দৃশ্য।

কফির মগ একপাশে রাখি। পকেট থেকে মোবাইল বের করি। ছোট একটা ক্লিকে ধারন করি। নামাজরত বাপ-ছেলের নৈসর্গিক মুহুর্ত।

Comments

    Please login to post comment. Login