বন্ধু উজ্জলের বাসায় গেলাম অনেকদিন পর। ব্যস্ততা চলে এসেছে জীবনে, চাইলেও এখন আর আগের মতো বের হওয়া যায়না। তার সাথে থাকে তার ছোট ভাই সেলিম। বন্ধু খুবই পেরেশানিতে আছে, ছোট ভাইটা নামাজ পড়েনা৷
কথা প্রসঙ্গে সেলিমকে আমি নামাজের কথা বললাম।
সে জবাবে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিল আমার দিকে,"ভাই৷ আমি তো কোন পাপ করিনা। কেন আমি নামাজ পড়বো?"
আমি বললাম,"তোমাকে কে বলেছে যে পাপ করলেই নামাজ পড়তে হয়? এটা কোথায় পেয়েছো?"
সে আবার বললো,"যারা অপরাধ করে তারাই শাস্তির ভয় পায়। আমি কারো দুই টাকার ক্ষতি করিনি জীবনে৷ কেন আমি নামাজ পড়বো?"
আমি জবাবে বললাম,"এটা তোমার ভুল ধারণা যে পাপ করলেই নামাজ পড়তে হয়। নামাজ হলো আল্লাহর বান্দার জন্য আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার উপায়। আল্লাহর কাছে হাজিরা দেওয়ার পথ৷
একজন মুসলিম দিনে পাচবার আল্লাহর কাছে হাজিরা দেয়। এখানে পাপ করা বা না করার বিষয় নেই।"
সে প্রশ্ন করলো,"নামাজ প্রতিদিন পাচবার পড়তে হয়। একটা কাজ দিনে পাচবার করা কঠিন।"
আমি বললাম,"আল্লাহর কাছে দিনে পাচবার হাজিরা দিতে হয় বলে সত্যিকারের নামাজী মানুষ সব সময় আল্লাহর স্মরণে থাকে৷ সে এত সহজে কোন পাপ কাজে লিপ্ত হতে পারেনা।
আর পাচবার আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের যে আনন্দ এটা যারা বুঝতে পারে, তাদের জন্য কাজটা খুবই সহজ। আল্লাহর কাছে হাজিরা দেওয়ার চেয়ে উত্তম আর কি হতে পারে?
তুমি নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে দিলে বুঝতে পারবে। তখন আর এমন মনে হবেনা।"
সে আবার বললো, "আমার ধারণা ছিলো যে, পাপ করলেই নামাজ পড়তে হয়। নামাজ না পড়লেও তো আমার ইমান আছে।"
তার কথার জবাবে বললাম,"নামাজ হলো সেই উপায় যার মাধ্যমে বুঝা যায় একজন মানুষের আসলেই ইমান আছে কি-না। কারণ ওই ব্যক্তির ইমানই তাকে নামাজের দিকে নিয়ে যায়, মসজিদের দিকে নিয়ে যায়।
যে ইমান মানুষকে আল্লাহর হুকুমের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে পারেনা, সেটা কেমন ইমান?
তাছাড়া একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মাঝে ইমান আনার পরেই নামাজ পড়ার অবস্থান। এটা এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।"