জাপানে আসার পর মুরুব্বি দেখলেই সালাম দিতে ইচ্ছে করে। সালাম দেয়ার এক বিশাল ক্ষুধা নিয়ে সর্বদা ঘুড়তে হয়। শুধু মুসলমান কাউকে পেলেই সালাম দেয়া যায়।
ছোটবেলায় যখন প্রথম স্কুলে যাই তখন শিক্ষকগণ সালাম দেয়া শিখিয়েছিলেন। মুসলিম কাউকে পেলেই সালাম দিতে হবে; চেনা হোক আর অচেনা হোক৷ আর অমুসলিম হলে আদাব দিতে।
দেশে থাকতে আমার দাড়ি রাখার আগের কথা মনে পড়ে গেলো। কয়েকবার একই রকম ঘটনা ঘটেছে।
মুরুব্বি একজনে সালাম দিতে যাবো। তখনই তার ক্লিন শেভ চেহারা দেখে খটকা লেগে গেলো। কিছুতেই তাকে মুসলিম মনে হচ্ছে না। আবার আদাবও দিতে পারছিনা। উনি মুসলিম হলে আদাব দেয়াকে কিভাবে নিবেন সেটা আল্লাহই ভালো জানে।
আমার সাথে এই ঘটনা আরো বেশ কয়েকদিন ঘটেছে। মন থেকে চেয়েও সালাম দিতে পারিনি। আবার আদাবও দিতে পারিনি।
আরো মজার বিষয় হলো, ওই লোকগুলোর মাঝে বেশিরভাগই মুসলিম। বিশেষ করে শুক্রবার মসজিদে প্রায় সবাইকে পাওয়া যায়।
এই ঘটনাটি আমার চোখ খুলে দিলো। আমি অবাক হলাম৷ তখন নিজেও দাড়ি রাখার নিয়ত করলাম। আমার পরিবার থেকে তো দাড়ি রাখার জন্য আগে থেকেই চাপ দিচ্ছিল।
আমি যতটুকু সম্ভব দাড়ির সর্বোচ্চ যত্ন নিই। দাড়িকে এমনভাবে রাখি যেন আমি যে মুসলিম এ বিষয়ে কারো মাঝে বিন্দু মাত্র সন্দেহ না আসে।
নবীজি সা: এর হাদিসের ভাষাটাও স্পষ্ট। উনার উম্মত মানে মুসলমানরা বেশভুষায় এমন হবে যে তাদেরকে সহজে আলাদা করা যাবে।
অথচ ফ্যাশনের নামে আমরা এমন সব বেশ ধারণ করে থাকি যে, কেউ আমাদের এত সহজে আলাদা পারবেনা।
22
View