নীরবতার ভেতর যে আলো
গ্রামের শেষ মাথায় একটা পুরোনো পুকুর ছিল। পুকুরটার পানি যেমন গভীর, তেমনই গভীর ছিল তার পাড়ে বসে থাকা ছেলেটার চোখ। সে প্রতিদিন বিকেলে সেখানে এসে বসত—কেউ জানত না কেন। শুধু জানত, সে খুব চুপচাপ।
ছেলেটার মা বলতেন, “কিছু মানুষ কথা না বলে বেশি অনুভব করে।”
আর সে-ই ছিল সেই মানুষ।
তার বাবার চলে যাওয়ার পর শব্দগুলো যেন তার জীবনে ভারী হয়ে উঠেছিল। তাই সে শব্দের বদলে নীরবতাকে বেছে নিয়েছিল। পুকুরের জলে আকাশের প্রতিচ্ছবি দেখত, আর ভাবত—মানুষ কি ভেঙে গিয়েও পূর্ণ থাকতে পারে?
একদিন হঠাৎ বৃষ্টি নামল। সবাই দৌড়ে ঘরে ফিরল, কিন্তু সে ফিরল না। বৃষ্টির ফোঁটা তার চোখের জলের সাথে মিশে গেল। কেউ বুঝল না—সেই মুহূর্তে সে কাঁদছিল, না কি নিজেকে হালকা করছিল।
ঠিক তখনই পাশের বাড়ির ছোট মেয়েটা এসে বলল,
“তুমি একা কেন বসে আছো?”
ছেলেটা কিছু বলল না। শুধু মুচকি হাসল।
মেয়েটা আবার বলল,
“তুমি জানো, হাসি মানে কিন্তু শক্ত হওয়া।”
সেই প্রথম, অনেকদিন পর, ছেলেটার বুকের ভেতর কিছু একটা নড়ে উঠল। সে বুঝল—সব গল্প মুখে বলা হয় না, কিছু গল্প বেঁচে থাকলেই লেখা হয়ে যায়।
সেদিন থেকে সে আর নীরবতাকে ভয় পায় না। কারণ সে জানে—নীরবতার ভেতরেও আলো থাকে, শুধু দেখতে জানতে হয়।
— আদিত্য ভৌমিক