Posts

নন ফিকশন

শরীয়া আইন ও হাদীস - মোহাম্মদ বিন সালমান এর সাক্ষাৎকার ১

February 3, 2026

মো; আহসান-উজ-জামান

Original Author মোহাম্মদ বিন সালমান

Translated by Ahsan's Archive

28
View

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে তার ‘ভিশন ২০৩০’ নিয়ে এক বিস্তারিত সাক্ষাৎকার দেন। তার চুম্বক অংশ নিয়ে ধারাবাহিক অনুবাদ এর প্রথম পর্বঃ

Saudi Crown Prince Mohammed bin Salman interview on Vision 2030 [English  subtitles] - Part 3/3 - YouTube




 

আবদুল্লাহ আল মুদাইফার: হিজ রয়্যাল হাইনেস ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে বিশেষ সাক্ষাৎকারে আবার স্বাগতম। মহামান্য, আপনি মধ্যপন্থা সম্পর্কে কথা বলছিলেন। আপনার মতে ‘মডারেশন' ধারণার ব্যাখ্যা কী?



 

ক্রাউন প্রিন্স: শব্দটি কিন্তু বেশ বিস্তৃত অর্থ বহন করে। সমস্ত মুসলিম আইনবিদ এবং পণ্ডিত এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপন্থা সম্পর্কে কথা বলে আসছেন। সুতরাং, আমি মনে করি না যে আমি এই ধারণাটি স্পষ্ট করার মতো অবস্থানে আছি, তবুও চেষ্টা করবো যতোটা পারি…

আমাদের মৌলিক শাসন ব্যবস্থা - সৌদি সংবিধান, যা কুরআন এবং সুন্নাহ নির্ভর - আমরা সেটা এমনভাবে মেনে চলবো এবং সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবো যার মাঝে সবাই ই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আবদুল্লাহ আল মুদাইফার: এটি আমাকে আরেকটি প্রশ্নের দিকে নিয়ে যায়, তা হলো রাজ্যে শরীয়ার অবস্থান কী? অর্থাৎ সংবিধান, বিচার বিভাগ, পাবলিক স্পেস এবং ব্যক্তির স্বাধীনতার স্তরে শরীয়ার ভূমিকা কী?



 

ক্রাউন প্রিন্স: আমি আগেই বলেছি, আমাদের সংবিধান হল কুরআন, যা  আগেও ছিল, এখনও আছে এবং চিরকাল থাকবে। এবং আমাদের মৌলিক শাসন ব্যবস্থা এটি খুব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে। সরকার, আইন প্রণেতা বা শুরা কাউন্সিল এবং রাজা - এই তিনটি কর্তৃপক্ষের রেফারেন্স হিসাবে, আমরা কোন না কোন আকারে কুরআন বাস্তবায়ন করতে বাধ্য। কিন্তু সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ে আমরা কেবলমাত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত শর্তাবলী বাস্তবায়ন করতে বাধ্য। সুতরাং, কুরআনের সুস্পষ্ট বিধান কিংবা সুন্নাহ থেকে সুস্পষ্ট শর্ত ছাড়া আমি শরীয়ার কোন শাস্তি কার্যকর করতে পারি না।


যখন সুন্নাহ থেকে কোন সুস্পষ্ট শর্তের কথা বলা হয়, অধিকাংশ হাদীস লেখক তাদের নিজস্ব টাইপোলজির উপর ভিত্তি করে হাদীসকে শ্রেণীবদ্ধ করেন, যেমন বুখারী, মুসলিম এবং অন্যান্য, সঠিক হাদীস বা দুর্বল হাদীসে। তবে আরেকটি শ্রেণীবিভাগ রয়েছে যা আরও গুরুত্বপূর্ণ, যেমন একটি রেওয়ায়েত বা হাদিস অনেকের বর্ণণা থেকে এসেছে নাকি একজনের। এবং এটি কিন্তু আইনশাস্ত্রে শরীয়ত অনুযায়ী নিয়ম-কানুন প্রণয়নের জন্য অন্যতম প্রধান রেফারেন্স।

যেমন ধরুন ‘মুতাওয়াটার’ হাদিস - অর্থাত্ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে এক দল থেকে অন্য দলে বর্ণিত এবং হস্তান্তর কৃত হাদিস - এই হাদীসগুলি কিন্তু সংখ্যায় খুব কম, তবে সত্যতার দিক থেকে এগুলো বেশ শক্তিশালী। তাদের ব্যাখ্যাগুলিও কিন্তু কখন এবং কিভাবে প্রকাশিত হয়েছিল তার উপর নির্ভরশীল। শুধু তাই নয়, সেই সময়ে হাদীসটি কীভাবে বোঝা হয়েছিল তা ও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। 

আবার আরেক ধরণের হাদিস রয়েছে যাদের আমরা আহাদ হাদিস বলি, যেগুলি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে এক ব্যক্তি থেকে অন্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়, বা একটি দল থেকে আরেকটি দল, তারপর দল থেকে একক ব্যক্তির কাছে, তারপর আবার অন্য দলের কাছে। একে আহাদ হাদীস বলে। এটি অনেক শ্রেণীবিভাগে বিভক্ত, যেমন সঠিক, দুর্বল বা ভাল হাদীস। আহাদ হাদিস কিন্তু মুতাওয়াটার হাদিসের মতো শক্তিশালী নয়;  যদি না এর সাথে কুরআনের সুস্পষ্ট শর্তাবলী  যুক্ত থাকে কিংবা একটি সুস্পষ্ট জাগতিক বা পার্থিব ভালো উদ্দেশ্য যুক্ত থাকে, আবার একে একটি সঠিক আহাদ হাদিস ও হতে হবে। এটিও কিন্তু সংকলিত হাদীসের একটি ছোট অংশ।

আরো এক ধরণের হাদিস হচ্ছে "খবর" - যে হাদিস একজন একক ব্যক্তি থেকে অন্য একক ব্যক্তি কাছে হস্তান্তরিত হয় যার উৎস অজানা, কিংবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে একটি দল থেকে আরেকটি দলে, তারপরে একজন ব্যক্তি হয়ে অন্য ব্যক্তির বা দলের কাছে - এই ধরণের হাদিসের মাঝে একটি ‘মিসিং লিংক’ থাকে, এবং মূলত এ ধরণের হাদীস ই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই ধরণের হাদীস আর যা-ই হোক নির্ভরযোগ্য নয় এই অর্থে যে এর সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং এটি বাধ্যতামূলক নয়। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনী যখন প্রথম সংরক্ষণ শুরু হয় তখনই কিন্তু প্রথম হাদিস লিপিবদ্ধকরণের কাজ শুরু হয় - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিন্তু তখন সেই রেকর্ডগুলো পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং হাদিস লিখতে নিষেধ করে দিয়েছিলেন যাতে করে লোকজন একে শরীয়া আইন ভেবে বাধ্যতামূলক ভাবে পালন করা শুরু না করে দেয়। এই নিয়ম কিন্তু “খবর” হাদিসের ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আরও একটি ব্যাপার হচ্ছে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, যিনি সকল সময় এবং স্থানের জন্য উপযোগী নির্দেশনা তৈরি করতে সক্ষম, তার নির্দেশনাকে বিতর্কিত করার জন্যও এগুলিকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তাই, সরকারকে, যেখানে শরিয়া সম্পর্কিত, সেখানে ‘মুতাওয়াটার’ হাদিসকে ভিত্তি করে কুরআনের বিধিবিধান এবং শিক্ষাগুলি বাস্তবায়ন করতে হবে, আহাদ হাদিসের  ভিত্তিতে কোন কিছু বাস্তবায়ন করার পূর্বে ‘আহাদ’ হাদিসগুলোর সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা খতিয়ে দেখতে হবে এবং "খবর" হাদিসগুলোকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করতে হবে, যদি না মানুষের জন্য সুস্পষ্ট কোন সুবিধা পাওয়া যায়। সুতরাং, ধর্মের সাথে সম্পর্কিত কোন বিষয়ে কোন শাস্তি হওয়া উচিত নয় যদি না কুরআনে সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান বা নির্দেশনা থাকে। এবং এই দণ্ড কার্যকর করা হবে যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা প্রয়োগ করেছেন তার ভিত্তিতে।  আসুন আমি আপনাকে একটি উদাহরণ দিচ্ছিঃ ব্যভিচার।

ব্যভিচারে অবিবাহিত ব্যভিচারীকে বেত্রাঘাত করা হয়, বিবাহিত ব্যভিচারীকে হত্যা করার কথা বলা আছে। এবং এটি একটি (কোর'আনে) সুস্পষ্ট শর্ত, কিন্তু যখন এক মহিলা ব্যভিচারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসেছিলেন এবং তিনি নবীকে বলেছিলেন যে তিনি ব্যভিচার করেছেন, তখন তিনি বেশ কয়েকবার রায় দেয়ার সময় পিছিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর মহিলা বারবার তার শাস্তির ব্যাপারে জোরাজুরি করছিলেন  দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন তিনি গর্ভবতী কিনা পরীক্ষা করে দেখতে। মহিলা নিশ্চিত হয়ে আবার ফিরে এসেছিলেন এবং আবারও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাকে শিশুটির দুধ ছাড়ার পর আসতে বলেন। মহিলাটি কিন্তু আবার ফিরে নাও আসতে পারতেন, কিন্তু তারপরও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম বা তিনি কে ছিলেন সে সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করেননি।

সুতরাং দেখুন, এই যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ করা পদ্ধতির পরিবর্তে অন্য পদ্ধতিতে কুরআনের কোন বিধান বাস্তবায়ন করা এবং কোন নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য ব্যক্তির সন্ধান করা - অথচ যেখানে অপরাধী তার অপরাধ স্বীকার করার পরেও নবী (সা.) তার সাথে এমন আচরণ করলেন যেটা ঈশ্বরের নির্দেশিত নয়।


কুরআন বা মুতাওয়াটার হাদিসে এমন শাস্তির কোনও বিধান না থাকা সত্ত্বেও শরীয়া আইনে আছে বলে কোন শাস্তি কার্যকর করা কিন্তু শরীয়া আইন নিয়ে এক প্রকার মিথ্যাচার। যখন সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদেরকে কোন নির্দিষ্ট ধর্মীয় অপরাধের শাস্তি দিতে চেয়েছেন, তখন তিনি এটি স্পষ্টভাবে কুরআনে উল্লেখ করে দিয়েছেন। আবার যখন তিনি কোন কাজ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন তখন এই নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের জন্য তিনি পরকালে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি মানুষের উপর সেই কাজের শাস্তি দেয়ার দায়িত্ব দেন নি, বরঞ্চ ব্যক্তির উপর ই সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্বটি ছেড়ে দিয়েছেন এই বলে যে শেষ বিচারের দিন একদিন আসবেই, এখন সিদ্ধান্ত তোমার। শেষ পর্যন্ত ঈশ্বর করুণাময়, শিরক ব্যতীত সমস্ত অপরাধ ই ক্ষমার যোগ্য। সুতরাং, আমাদের সংবিধান ও শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহ বাস্তবায়নের জন্য এটাই সঠিক পন্থা।

সম্পূর্ণ ইন্টারভিউ এর লিংক এর জন্য এখানে ক্লিক করুন
 

Comments

    Please login to post comment. Login