আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শুধু স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখা যথেষ্ট নয়।
মানুষের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শেখার প্রয়োজন। এটাই জীবনব্যাপী শিক্ষার মূল ভাবনা। জীবনব্যাপী শিক্ষা মানে হলো, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলমান শিক্ষার ধারাকে গ্রহণ করা। এটি শুধু পঠন-পাঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্যক্তিগত দক্ষতা, সামাজিক দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, নৈতিক মান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের এক অব্যাহত প্রক্রিয়া।
জীবনব্যাপী শিক্ষা আমাদেরকে আরও আত্মনির্ভর, সৃজনশীল এবং মানসিকভাবে স্থিতিশীল করে। এটি আমাদের শেখায় কিভাবে পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়, কিভাবে নতুন সমস্যার সমাধান করতে হয়, এবং কিভাবে নিজের লক্ষ্য ও সমাজের উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।
বিশেষ করে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে, যেখানে প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, জীবনব্যাপী শিক্ষা এক ধরনের আন্দোলন হয়ে উঠেছে। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নয়, জাতীয় উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। যারা নতুন জ্ঞান ও দক্ষতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে জানে, তারাই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকে। আর যারা থেমে থাকে, তারাই পিছিয়ে যায়।
জীবনব্যাপী শিক্ষা আমাদের শেখায়, "ভুল মানেই অগ্রগতি।" যখন আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নেই, তখন আমরা নিজের সীমাবদ্ধতা চিনি এবং উন্নতির পথ খুঁজে পাই। এটি আমাদেরকে প্রগতিশীল এবং চতুর সমাজ গঠনে সহায়তা করে। তাই এই আন্দোলন জরুরি—কারণ শেখার কোনো বয়স নেই, কোনো সীমাবদ্ধতাও নেই। এটি হলো সমৃদ্ধ, মানবিক এবং দক্ষ জীবনের ভিত্তি।
অতএব, জীবনব্যাপী শিক্ষাকে শুধুমাত্র একটি শৈক্ষিক ধারণা হিসেবে নয়, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি পরিবার, এবং প্রতিটি সমাজ যদি এই দর্শনকে মেনে চলে, তবে পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের সমৃদ্ধিও নিশ্চিত করা সম্ভব।