শামসুল আমাকে জিজ্ঞেস করলো,"আপনি বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করেন?"
আমি উত্তর দিলাম, "হ্যা। অবশ্যই বিশ্বাস করি। অবিশ্বাস করার কিছুই নেই। "
সে অবাক হয়ে আবার জিজ্ঞেস করলো,"তাহলে ধর্মের উপর আপনার বিশ্বাস আছে তো?"
আমি বললাম,"দেখো। কোরান-হাদিস এর জ্ঞানের বিপরীত না হলে আমার জন্য মানতে অসুবিধা নেই।
আমি ছোটবেলায় হামাগুড়ি দিয়ে চলেছি, তারপর হাটার বয়স হলে হাটতে শুরু করি, দাড়ি-গোঁফ উঠেছে। আমি এভাবেই বিবর্তিত হয়ে আজকের অবস্থানে এসেছি।"
সে মুখে বিরক্তি ফুটিয়ে বললো,"আপনারা কোরান-হাদিসের বাইরে যেতে পারেন না। আমরা পারি। আমাদের সুযোগ অনেক।"
আমি হেসে জবাব দিলাম,"হতে পারে। কিন্তু আমাদের কাছে কোরান-হাদিসই যে কোন কিছুর পরিমাপের মাপকাঠি। কোরান বলেছে, মানুষ থেকে মানুষ এসেছে। এখানে আর কারো কথা চলবেনা। আমাদের আদিমানব আদম-হাওয়া।
অন্যান্য সৃষ্টির বিষয়েও কোরানে যা আছে তাই আগে বিশ্বাস করি।
বিজ্ঞানের গবেষণায় তো এখনো চূড়ান্ত কথা আসেনি। তাছাড়া বিবর্তনবাদী ডারউইন নিজেও এমন দাবি করেননি যে মানুষ বানর থেকে এসেছে।
এখন কেউ যদি বানরের সাথে কিছু মিল থাকায় নিজেকে বানরের বংশধর মনে করে তাকে তো আর বাধা দেওয়া যায় না।"
সে হেসে বললো,"বিজ্ঞান অনেক কিছুই প্রমাণ করেছে। অনেক ধর্ম তা মেনেও নিয়েছে। আপনাদের মেনে নিতে অসুবিধা কোথায়?"
জবাবে বললাম,"আমাদের ধর্মগ্রন্থের উপর আমাদের বিশ্বাস আছে, তাই। তোমরা বিবর্তনের পেছনে প্রকৃতিকে দেখো। আমরা প্রকৃতিকে পরিচালনাকারী আল্লাহকে জানি।
আমরা বিবর্তনবাদকে অস্বীকার করিনা। তবে বিশ্বাস করি, এমন কিছু থেকে থাকলে সেটাও আল্লাহর হুকুমেই হয়।
আর মানুষ তো স্পষ্টতই কোরান অনুযায়ী মানুষ থেকে এসেছে, বানর থেকে নয়।"
23
View