ইউএসবি থেকে উঠে আসা তথ্যগুলো দেখতে দেখতে শাহাবুদ্দিনের শরীরের রক্ত হিম হয়ে গেল। অপারেশন ফিনিক্স - একটি সরকারি প্রকল্প যা পাঁচ বছর আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এখানে ছিল সেই প্রকল্পের লুকানো তথ্য ও গোপন কৌশল।
স্ক্রিনে প্রতিটি ফাইল খুলতে থাকতেই শাহাবুদ্দিনের হৃৎপিণ্ড যেন থেমে যেতে চাইল। ছবিগুলো, ডকুমেন্টগুলো, রিপোর্ট - সবই তার নিজের বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষ।
ইউএসবির ফাইলগুলো খুলতেই শাহাবুদ্দিনের শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল। অপারেশন ফিনিক্সের নামে কোডেড ফোল্ডার, তার ভিতরে ছবি, ডকুমেন্ট, আর রেকর্ডেড অডিও। প্রতিটি ফাইল যেন তার গোপন জীবনের খুঁটিনাটি বের করে আনছে, যা প্রকাশ পেলে তার পুরো সাম্রাজ্য ধ্বংস হতে পারে।
সেই মুহূর্ত থেকে শাহাবুদ্দিনের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ আরও সতর্কতামূলক হয়ে ওঠে। সে বুঝতে পারে, তার গোপনীয়তার অন্ত নেই, এবং তার অতীত তাকে ধরা রাখার জন্য অপেক্ষা করছে।
সেই রাতে শাহাবুদ্দিন তার পেন্টহাউসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে শহরের আলোর দিকে তাকিয়ে রইল। তার হাতে একটি খাম, যেখানে লেখা ছিল "শীঘ্রই পাঁচটার।"
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে শহরের বুকে। শাহাবুদ্দিন তার আড্ডাখানার জানালা দিয়ে দেখছিল শহরের আলোগুলো একে একে জ্বলে উঠছে। সেই অজানা সংকেতটি তার ফোনে আবার ভেসে উঠল।
সেই সংকেতের পিছনে ছিল একটি ফাইল - "অপারেশন ফিনিক্স" নামে একটি গোপন প্রকল্প। শাহাবুদ্দিন রাতের গভীরে সেই ফাইল খুলে দেখে, তার মধ্যে রয়েছে গত পাঁচ বছরের অনেক গুপ্ত তথ্য।
সেই রাতে শাহাবুদ্দিন তার অফিসের গোপন ড্রয়ারে রাখা ব্ল্যাকবেরি ফোন হাতে নিল। স্ক্রিনে একটি ম্যাসেজ: "পুরানো সেতুর নিচে, রাত ১১টা"। কোনো নাম নেই, কোনো পরিচয় নেই, শুধু সময় আর স্থান।

অপরদিকে মুইজউদ্দৌলা তার দৈনন্দিন রুটিনের মাঝে ডুবে থাকলেও, তার মনের কোথাও একটা অস্থিরতা তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে বসে পুরনো সংবাদপত্রের পাতাগুলো ঘেঁটে সে জানার চেষ্টা করছিল শাহাবুদ্দিনের গোপন জীবনের কিছু দিক। মুইজউদ্দৌলার আগমন শাহাবুদ্দিনের জন্য এক নতুন অধ্যাযের সূচনা করল।
রাতে ঘুম আসতেনা শাহাবুদ্দিনের চোখে; প্রতিটি ছায়া, প্রতিটি শব্দ, এমনকি বাতাসের সামান্য শব্দও তাকে উদ্বিগ্ন করে তুলত। মুইজউদ্দৌলা সেই রাতে তার গবেষণাগারে অনিদ্রায় কাটাচ্ছিল। তার সামনে খোলা ফাইলগুলি ছিল শাহাবুদ্দিনের পত্রিকার পুরোনো সংস্করণ, যেখানে অনেক অসংগতি এবং রহস্য লুকিয়ে ছিল।
সেদিন সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির কোণে বসে মুইজউদ্দৌলা প্রাচীন পাণ্ডুলিপির পাতা উল্টাচ্ছিল। হঠাৎ একটি ফোল্ডারে সে পেল অপারেশন ফিনিক্সের মত লুকানো তথ্যের সূচনা।
শাহাবুদ্দিন মুইজউদ্দৌলার প্রবেশকে শুরুতে উপেক্ষা করেছিল, কিন্তু তার অন্তর্দৃষ্টি তাকে সতর্ক করে দিল। এই তরুণ ছাত্রের চোখে ছিল এমন এক তীক্ষ্ণতা, যা সহজে কাউকে ধোঁকা দেয় না। মুইজউদ্দৌলা তার নিজের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, ধীরে ধীরে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছিল এবং শাহাবুদ্দিনের সাম্রাজ্যের গভীরে প্রবেশ করছিল।