— “তুমি কি আমায় সাথে নেবে, নিঃসঙ্গ পায়রা?”
— “কোথায় যেতে চাও তুমি?”
— “ঘুমের দেশে অথবা স্বপ্নের দেশে, যেখানে ঘুমিয়ে স্বপ্নের দেশে মেঘ ছুঁ’তে পারবো।”
— “কেন যেতে চাও?”
— “কারণ, বুকের ভেতর আছে এক মরুভূমি। তপ্ত রোদের ধূধূ গরমের বাতাসে নেই কোনো আনন্দ। এই কাফেলা ছেড়ে চলে এসেছি বহুদূর। আমায় সাথে নেবে না কেউ।”
এরপর, আমি দারুল ফিরাকের এই দুনিয়ায় গেঁথে আছি অনুধাবন করে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম। মনে হচ্ছে এক দ্বৈত বৈপরীত্যে নিজেকে আবিষ্কার করলাম। এখানের সবই তো প্রাচীন। মৃত্যুও অমীমাংসীত। আমার কিছু করার নেই, এটিও আমার সীমাবদ্ধতা নয়। অর্থ খোঁজার নাম কি জীবন? জানা নেই।
জীবন কি দর্শন? চিন্তা কি তত্ত্ব? তোমার চিন্তা করতে পারার সক্ষমতা মানুষ হিসেবে তোমার পরিচয় স্থিতিশীল করে রাখছে— বুঝতে পারছো? সে নিশ্চুপ। কিন্তু, এই হতে পারার প্রক্রিয়া হয়ে যাবার পরে কি থাকে অবশিষ্ট আর? তুমি চিন্তার পথে ঘুরতে ঘুরতে অন্বেষণ থামাতে চাও? জানি না।
হাতে তাসবীহ রেখে ফাহম করো। সিরাতে মুস্তাকিম থেকে বিচ্যুত থেকো না। তোমার হিকমাহ তোমাকে আলো দেবে। খোদা জানে তোমার রূহের ক্লান্তি। তোমার ইস্তিকামাত তোমাকে বেহেশতে নিয়ে যাবে।
চিৎকার থেকে নীরবতার দিকে যেতে যেতে আমরা বদলে যাই। গল্প শুধু ঘটনানির্ভর নয়। সময় আমাদের গল্পকে ধারণ করে। আমাদের গল্পে আমরা অচেনা। আমাদের গল্পে আমরা অজানা। সব যাত্রা গন্তব্য হয় না জীবনে, এটি বুঝতে পারার মধ্যেই তোমার সমাধান আছে।