Posts

পোস্ট

আবুল হাশিম স্মৃতি পাঠাগার: খলিষখালীর গর্ব

February 9, 2026

Razib Paul

15
View

বাংলার প্রগতিশীল রাজনৈতিক চিন্তার অন্যতম পথিকৃৎ আবুল হাশিম-এর আদর্শ ও স্মৃতিকে ধারণ করে ২০০৮ সালে খলিষখালীতে প্রতিষ্ঠিত হয় “আবুল হাশিম স্মৃতি পাঠাগার”। এটি শুধু একটি পাঠাগার নয়; এটি একটি চিন্তার কেন্দ্র, একটি সাংস্কৃতিক আলোকবর্তিকা, একটি স্বপ্নের বীজতলা—যেখান থেকে নতুন প্রজন্ম জ্ঞান, মানবতা ও ন্যায়বোধের শিক্ষা গ্রহণ করে।
প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য
খলিষখালীর মতো গ্রামীণ জনপদে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা ছিল সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের যুগেও বইয়ের বিকল্প নেই। সেই উপলব্ধি থেকেই স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবীরা ২০০৮ সালে এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল—তরুণ প্রজন্মকে পাঠাভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি সচেতন করা এবং নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি সমাজ গড়ে তোলা।
আবুল হাশিম যে যুক্তিবাদী, উদার ও সংস্কৃতিমনস্ক রাজনীতির কথা বলেছিলেন, এই পাঠাগার তারই প্রতীক। তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি কেবল জ্ঞানের চর্চাকেন্দ্র নয়, বরং একটি আদর্শিক পরিচয়ের ধারক।
পাঠাগারের কার্যক্রম ও ভূমিকা
এই পাঠাগারে রয়েছে সাহিত্য, ইতিহাস, রাজনীতি, ধর্ম, বিজ্ঞান ও শিশুতোষ বইয়ের সমৃদ্ধ সংগ্রহ। শিক্ষার্থীরা এখানে পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিভিন্ন সৃজনশীল বই পড়ার সুযোগ পায়। পরীক্ষার প্রস্তুতি, সাধারণ জ্ঞান চর্চা কিংবা সৃজনশীল লেখালেখির অনুপ্রেরণায় এই পাঠাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ দিবসে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, প্রবন্ধ পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে এটি হয়ে উঠেছে খলিষখালীর সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও মেধা বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টি করাও এর অন্যতম সাফল্য।
সামাজিক প্রভাব
একটি গ্রামে পাঠাগার মানে কেবল বইয়ের তাক নয়—এটি মানসিক উন্নয়নের একটি ক্ষেত্র। আবুল হাশিম স্মৃতি পাঠাগার তরুণদের অবসর সময়কে অর্থবহ করে তুলেছে। মোবাইল ও ভার্চুয়াল জগতের বাইরে এনে তাদের বইয়ের জগতে যুক্ত করেছে। এতে করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে চিন্তাশীলতা, ভাষাগত দক্ষতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গ্রামীণ সমাজে যেখানে অনেক সময় শিক্ষার সুযোগ সীমিত, সেখানে এই পাঠাগার আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি প্রমাণ করে—সঠিক উদ্যোগ ও সদিচ্ছা থাকলে ছোট জায়গা থেকেও বড় পরিবর্তনের সূচনা সম্ভব।

“আবুল হাশিম স্মৃতি পাঠাগার” খলিষখালীর গর্ব, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণা। এটি কেবল অতীতের এক মহান নেতার স্মৃতিরক্ষাই নয়, বরং তাঁর আদর্শকে জীবন্ত রাখার এক নিরন্তর প্রয়াস।
জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক খলিষখালী—এই প্রত্যাশায় পাঠাগারটি আরও সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত হোক, নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিক চিন্তার স্বাধীনতা ও মানবিকতার বার্তা।

Comments

    Please login to post comment. Login