Posts

গল্প

চাদপাখি

February 9, 2026

Meherin Mahir

14
View

আজ দিনে কতবার বৃষ্টি হলো, কতবার? বাহিরে একটা কলসি দিয়ে বৃষ্টির পানি জমা করলাম।জানি না কেনো,কিন্তু কেনো জানি বৃষ্টির পানি জমা করতে ভালো লাগে। হঠাৎ মনে পড়লো বাজারে যেতে হবে।কিন্তু একা কীভাবে যায়, সন্ধ্যা নেমে এলো।দেখি ইশিকে নিয়ে যাবো। মা আমার ফোন কোথায়... 

আমি ইরম,নামটা একটু অদ্ভুত, মা ভেবেছিলো তার প্রথম সন্তান ছেলে হবে, তাই নাম ঠিক করে রেখেছিল ইরাম,সেই থেকে নাম হলো ইরাম কিন্তু সবাই আমাকে ইরম বলেই ডাকে। আমার এখন বয়স ৩০,মনে হয় খানিকটা বুড়ি হয়ে গেছি,এ ৩০ বছরের এর জীবন যেন আমার কাছে ২ টা বিশ্বযুদ্ধের মতো।

বেশ ভালো আছি এখন,জীবনটা গুছিয়ে নিয়েছি, সাজিয়ে নিয়েছি। মাঝখানে হারিয়েছি কতশত স্বপ্ন, বার বার হুঁচট খেয়ে পড়েছি, কিন্তু আমি আবার নতুন করে স্বপ্ন বুনেছি,আমি আবার উঠে দাড়িয়েছি।সেই প্রাই ১০ বছর আগের কথা,আমি তখন ১৯ না ২০ বছরের আমার খেয়াল নেই।বৃষ্টি খুব ভালোবাসতাম।বর্ষা আমার প্রিয় ঋতু। একদিন সারদিন বৃষ্টি হলো, কিন্তু থেমে থেমে।আমার বান্ধবী ইশি,বেস্ট ফ্রেন্ড বলা চলে,খুব চতুর,খুবই এক্টিব। পরদিন ছিলো আমার ছোটবোন নিতির জন্মদিন।তাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার প্ল্যান সেই ১ মাস ধরে করছি ইশির সাথে।বৃষ্টি থাকায় সারাদিন বাজারে যেতে পারিনি। বাজারে বাবার দোকান আছে।ভেবেছি বাজার থেকে ১ টা কেক আর কিছু ফুল আনবো,আর মা বলেছে নিতির জন্য যেন একটা হলুদ সারি আনি।বিকেলে আমি রেডি হয়ে ইশিকে ফোন করলাম,কিন্তু ফোনটা ইশির মা ধরলো,বললো ইশি তার বোনের বাসায়।আমি খুব অবাক হলাম,দুপুরেও কথা হলো একসাথে বাজারে যাবো আমাকে তো বললো না।কিছুক্ষন পর আবার ফোন আসলো ইশির ফোন থেকে,'হ্যালো, ইরম,ইশি কী তোমার বাড়িতে? সেই দুপুরে বের হলো হামির বাসায় যাবে বলে,এখন হামি ফোন করে জানালো সে যায়নি, সন্ধে নেমে এলো'। আমার সাথে বাজরে যাওয়ার কথা,তারপর আর কথা হয়নি,বাসায়ও আসেনি। 

তারপর ৫ দিন চলে গেলো ইশির কোনো খোঁজ নেই। 

মাইকিং,ফেসবুক,পেপার সব জায়গা প্রচার করা হলো।থানা পুলিশ সব জায়গা সব ধরনের চেষ্টা কর হলো।এভাবে প্রায় একমাস পর, খবর এলো পশ্চিমের নদীর উপার একটি মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে, কিন্তু চেহেরা দেখে বুঝার উপায় নেই মেয়েটি কে। থানায় ডিএনএ টেস্ট করে কনফার্ম হলো মেয়েটি ইশি নই।কিন্তু আমাদের ইশির কোথাও খোঁজ মিললো না।এভাবে প্রায় ৬ মাস সবাই ইশিকে খোঁজলাম কোনো সন্ধান মিলেনি। আমি আর মা প্রায় ইশির মায়ের সাথে দেখা করে আসি।ইশি নিখোঁজ হওয়ার ৭ মাস পর,আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু,প্রবেশপত্র আনতে স্কুলে যাবো,হঠাৎ ইশির মায়ের ফোন, ‘তোমার মা কে নিয়ে আমাদের বাড়ি এসো তারতারি' আমি আর মা তাদের বাড়ি গেলাম, দুজনেই অবাক হয় একটি চেয়ারে ইশি বসা। পুরো বাড়ি মানুষের ভির হয়ে গেলো,চারপাশে মানুষ নানান কথা বলতে লাগলো।আমি ইশিকে জরিয়ে ধরে কান্না করতে লাগলাম। কিন্তু অবাক করার বিষয় সে আমাকে চিনলো না,তার মা জানালো ইশির কিছু মনে নেই,একটি স্টেশন থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। কিন্তু কোথায় ছিলো ইশি।

ইশির বাবারা ছিলো পাঁচ ভাই,বাড়ি জুরে ইশি ছিলো একমাত্র মেয়ে। হিমি ছিলো তার খালার মেয়ে যাকে সে আপন বোনের মতোই দেখতো।ইশির ছোট দুই চাচা বিয়ে করেনি,তার মেঝো কাকার দুই ছেলে একজন বিদেশে আরেকজন ঢাকায় ব্যবসা করে।আর বড় কাকার তিন ছেলে, তিনজনই কাপরের ব্যবসা করে,বিবাহিত। কিন্তু ইশি কোথায় ছিলো এতদিন!

Comments

    Please login to post comment. Login