ইউএসবিটা কম্পিউটারে ঢোকানোর মুহূর্তেই শাহাবুদ্দিনের মনে হলো—ঘরে বাতাস নেই।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি নাম, বহু বছর আগেই যে নাম মুছে যাওয়ার কথা ছিল—
অপারেশন ফিনিক্স।
সরকারি নথিতে প্রকল্পটি পাঁচ বছর আগে বন্ধ।
কিন্তু এই ফোল্ডারগুলো… জীবিত।
ছবি, কোডেড রিপোর্ট, ভয়েস রেকর্ড—
প্রতিটি ফাইল খুলতেই তার ভেতরের কোথাও একটা করে শব্দ ভাঙছিল।
এগুলো প্রমাণ নয়, তবু এগুলো থাকলেই যথেষ্ট।
কিছু সত্য আছে, যেগুলো প্রকাশ না পেলেও মানুষকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
রাতের শহর তার পেন্টহাউসের কাচে প্রতিফলিত হচ্ছিল।
আলো ঝলমল, অথচ তার ভেতরে অন্ধকার জমাট বাঁধছিল।
হাতে ধরা খামটার ওপর শুধু একটি লাইন—
“শীঘ্রই পাঁচটার।”
কোন দিন, কোন বছর—কিছু নেই।
শুধু সময়।

সেই রাতেই পুরনো ব্ল্যাকবেরি ফোনে ম্যাসেজ আস—
“পুরানো সেতুর নিচে। ১১টা।”
কোনো নাম নেই।
কোনো পরিচয় নেই।
শাহাবুদ্দিন বুঝতে পারে, কেউ তার অতীতের দরজা খুলে ফেলেছে।
আর সেই দরজা একবার খুললে, আর বন্ধ হয় না।
রাত যত বাড়ছিল, তার চারপাশের নীরবতাও তত ভারী হয়ে উঠছিল।
এসি চলছিল, তবু ঘামে ভিজে যাচ্ছিল তার ঘাড়।
ইউএসবির ফাইলগুলো সে মুছে ফেলেনি, লুকিয়েও রাখেনি—
শুধু ডেস্কের ড্রয়ারে রেখে দিয়েছে,
যেন চোখের আড়ালে থাকলেই স্মৃতি মুছে যাবে।
কিন্তু কিছু ফাইল চোখ বন্ধ করলেই ভেসে ওঠে।
একটি অডিও ক্লিপ বারবার তার মাথার ভেতর বাজছিল—
ভয়েসটা পরিচিত নয়, তবু অস্বস্তিকরভাবে আপন।
কথাগুলো অসম্পূর্ণ, বাক্যগুলো কাটা,
আর প্রতিটা থেমে যাওয়ার জায়গায়
শব্দের চেয়েও ভয়ংকর ছিল নীরবতা।
শাহাবুদ্দিন বুঝতে পারছিল—
যে এই তথ্যগুলো জোগাড় করেছে,
সে শুধু জানে না,
সে অপেক্ষাও করছে।
অন্যদিকে মুইজউদ্দৌলা অজান্তেই একই ছায়ার ভেতরে ঢুকে পড়ছিল।
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে বসে পুরনো পত্রিকার পাতায়
সে খুঁজে পাচ্ছিল অদ্ভুত সব ফাঁক।
খবর আছে, কিন্তু পরিণতি নেই।
নাম আছে, কিন্তু মানুষ নেই।
একই শব্দ, একই তারিখ—
ফিনিক্স।
বারবার ফিরে আসে।
সে বুঝতে পারছিল,
এই গল্পটা কেউ ইচ্ছে করেই ভেঙে ভেঙে ছড়িয়ে দিয়েছে।
শাহাবুদ্দিন প্রথমবারের মতো আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে
নিজেকে প্রশ্ন করল—
শক্তি কি সত্যিই নিয়ন্ত্রণ,
নাকি নিয়ন্ত্রণ শুধু এক ধরনের ভ্রম?
রাত গভীর হলে শহর ঘুমায়,
কিন্তু কিছু সত্য জেগে ওঠে।
রাত তিনটায় তার ফোন আবার কেঁপে উঠল।
কোনো বার্তা নেই।
শুধু একটি টাইমার—
০২:০০:০০
কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে।
আর এই খেলায়
কেউই আর শুধু দর্শক নয়।