Posts

গল্প

এপস্টাইন এবং তার রহস্যময় দ্বীপ

February 10, 2026

Sakib morol

Original Author Sakib Morol

46
View

জেফরি এপস্টাইন এবং তার রহস্যময় দ্বীপ নিয়ে বর্তমানে সারা বিশ্বে যে তোলপাড় চলছে, তার পেছনের পুরো কাহিনীটি একটি থ্রিলার সিনেমার চেয়েও ভয়ংকর। 

দ্বীপের অবস্থান ও আদি পরিচয়

ক্যারিবিয়ান সাগরের নীল জলরাশির মাঝে অবস্থিত ইউনাইটেড স্টেটস ভার্জিন আইল্যান্ডস। এই দ্বীপপুঞ্জেরই একটি ছোট্ট দ্বীপ হলো লিটল সেন্ট জেমস। প্রায় ৭৫ একর আয়তনের এই দ্বীপটি প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত সুন্দর হলেও এর পরিচয় এখন শুধুই একটি "অভিশপ্ত স্থান" হিসেবে। ১৯৯৮ সালে মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টাইন এটি কিনে নেন। তিনি নিজের নামের সাথে মিলিয়ে মজা করে একে ডাকতেন "লিটল সেন্ট জেফ" নামে। কিন্তু সেখানে চলা অন্ধকার কর্মকাণ্ডের খবর যখন জানাজানি হয়, তখন স্থানীয়রা এর নাম দেন "প্যাডোপাইল আইল্যান্ড" বা শিশু যৌন নিপীড়কদের দ্বীপ।

দ্বীপের ভেতরকার জীবন ও প্রভাবশালী অতিথিরা

এপস্টাইন এই দ্বীপটিকে তার ব্যক্তিগত স্বর্গে পরিণত করেছিলেন। সেখানে ছিল বিলাসবহুল ভিলা, বিশাল লাইব্রেরি, হেলিপ্যাড এবং একটি অদ্ভুত নীল ডোরাকাটা মন্দির সদৃশ ভবন। এই দ্বীপে এপস্টাইন একা থাকতেন না; তার সাথে সবসময় থাকতেন তার সহযোগী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই দ্বীপে নিয়মিত যাতায়াত ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে বিজ্ঞানী, রাজপুত্র এবং বড় বড় ব্যবসায়ীরা এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমানে (যাকে বলা হতো 'ললিতা এক্সপ্রেস') চড়ে এই দ্বীপে আসতেন। বিল ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং বিল গেটসের মতো নামগুলো এই দ্বীপের সাথে জড়িয়ে বারবার আলোচনায় এসেছে।

কেন এটি এখন আলোচনার তুঙ্গে?

জেফরি এপস্টাইন ২০১৯ সালে জেলখানায় রহস্যজনকভাবে মারা যান (ধারণা করা হয় তিনি আত্মহত্যা করেছেন)। কিন্তু তার মৃত্যুর পরও কেন এটি এখন আবার আলোচনায় এলো?

এর প্রধান কারণ হলো "এপস্টাইন ফাইল"। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের শুরুতে মার্কিন আদালত এই মামলার হাজার হাজার পৃষ্ঠার গোপন নথি জনসমক্ষে প্রকাশের নির্দেশ দেয়। এই নথিতে বেরিয়ে আসছে যে, এপস্টাইন কেবল একজন অপরাধী ছিলেন না, বরং তিনি একটি আন্তর্জাতিক নারী ও শিশু পাচার চক্র চালাতেন। এই দ্বীপে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ওপর যে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো এবং তাতে কারা কারা যুক্ত ছিলেন, সেই প্রমাণগুলো এখন একে একে সামনে আসছে। সম্প্রতি প্রায় ৩০ লক্ষ পৃষ্ঠার নতুন নথি ও ছবি প্রকাশিত হওয়ায় এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

বর্তমান অবস্থা

এপস্টাইনের মৃত্যুর পর দ্বীপটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। এরপর ২০২৩ সালে স্টিভেন ডেকফ নামে এক বিনিয়োগকারী এটি কিনে নেন। তিনি সেখানে একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট বানানোর পরিকল্পনা করছেন যাতে দ্বীপটির কলঙ্কিত ইতিহাস মুছে ফেলা যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে লিটল সেন্ট জেমস আজও এক অন্ধকার অধ্যায়ের নাম, যেখানে ক্ষমতা আর অর্থের জোরে মানবতাকে বলি দেওয়া হয়েছিল।

Comments

    Please login to post comment. Login