লাশের পাশে সে বসে আছে চুপচাপ। লাশের দিকে তার মনোযোগ নেই। সে তাকিয়ে দেখছে মানুষের স্রোত। মানুষ সারিবদ্ধভাবে আসছে। তারা লাশটাকে দেখছে। তারপর কেউ কেউ চোখের পানি ফেলছে।
যাওয়ার সময় তাকে সান্ত্বনা জানিয়ে তারা চলে যাচ্ছে। অনেকে আবার তাকে জড়িয়ে ধরিয়েও কান্না করছে। কিন্তু তার চোখেমুখে কোন অনুভূতির রেশ নেই। তার যেন কোন আবেগ নেই। কেউ মরে গেলে কেদে কি লাভ? সবাইই তো একদিন মরবে। এটাই তো দুনিয়ার নিয়ম।
অনেকক্ষণ হলো সে বসে আছে লাশটাকে পাশে নিয়ে। মাঝে মাঝে তার বিরক্তি লাগছে। কেউ এসে লাশটাকে নিয়ে যাচ্ছেনা। সে কতক্ষণ বসে থাকবে এভাবে?
এভাবে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর চারজন লোক এসেছে লাশটাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তারা লাশটাকে নিয়ে যাবে অথচ তাকে কিছুই বলছেনা। এতক্ষণ পাহাড়া দেওয়ার জন্য একটা ধন্যবাদও দিচ্ছেনা। তবে শেষ মুহুর্তে তারা ইশারায় তাকে কাছে ডাকে এবং লাশটার দিকে ইংগিত করে। সে তাকিয়ে দেখে, তার সাথে ওই লাশটির অদ্ভুত মিল। ঠিক যেন লাশের স্থানে সে নিজেই শুয়ে আছে। এটা দেখার সাথে সাথেই একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায় তার শিরদাঁড়া বরাবর।
সে কি করবে বুঝতে পারেনা। এদিক সেদিক তাকায়।
তারপর খেয়াল করে যে, লোকগুলো লাশটা নিয়ে অনেক দূরে চলে গেছে ইতিমধ্যে। হঠাৎ কেন যেন তার বাধ বাঙ্গা কান্না আসে৷ সে চিতকার করে কান্না করতে থাকে। তারপর সেই লাশের কাছে যাওয়ার জন্য সে উন্মাদের মতো দৌড়াতে শুরু করে৷
একইভাবে কান্না করতে করতে সে উঠে বসে। এতক্ষণ সে স্বপ্ন দেখছিলো। এদিকে মসজিদ থেকে ফজরের নামাজের জন্য আযান দিচ্ছে। আহবানের সুর কানে বেশে আসছে,"আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম" যার অর্থ, "নামাজ ঘুম অপেক্ষা উত্তম"।
সে তাড়াতাড়ি অযু করে নেয়। মসজিদে যাবে। আজ থেকে নামাজ পড়বে।
হাটতে হাটতে সে খেয়াল করে মসজিদের দিকেও মানুষের স্রোত যাচ্ছে। সে বুঝতে পারেনা, এটা কি মানুষের স্রোত। নাকি সময়ের স্রোত যা মসজিদের পানে বয়ে চলেছে।
15
View