রাশেদ তার পুরনো ল্যাপটপে ‘ফিউচার ফান্ড’ নামের এক্সেল শিটটা ওপেন করল। গত তিন বছর ধরে সে একটা নিখুঁত পরিকল্পনা করে এগোচ্ছে। টার্গেট—মিরপুরের দিকে অন্তত ১০০০ স্কয়ার ফিটের একটা ফ্ল্যাটের বুকিং মানি জোগাড় করা। অফিসের লাঞ্চ বাসা থেকে নেওয়া, রিকশা ভাড়া বাঁচিয়ে প্রতিদিন দুই কিলোমিটার হাঁটা, এমনকি ঈদের বোনাসটাও খরচ না করা—সবই এই পরিকল্পনার অংশ।
সবকিছু ঠিকই ছিল। জমানো টাকার গ্রাফটা ধীরে ধীরে উপরের দিকেই উঠছিল। রাশেদ মনে মনে ফ্ল্যাটের বারান্দার রং কী হবে, সেটাও ভেবে রেখেছিল।
কিন্তু জীবন বোধহয় এক্সেল শিটের ফর্মুলা মেনে চলে না। গত মঙ্গলবার হঠাৎ করেই মায়ের বুকে ব্যথা। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা গেল হার্টে দুটো ব্লক। ইমার্জেন্সি এনজিওপ্লাস্টি।
হাসপাতালের বিল মেটাতে গিয়ে তিন বছরের জমানো সব টাকা, ডিপিএস ভাঙানো অর্থ, আর অফিসের লোন—সব নিমিষেই শেষ। আজ রাতে রাশেদ আবার ল্যাপটপটা খুলল। এক্সেল শিটের ‘ফ্ল্যাট বুকিং’ কলামটা এখন পুরোটাই শূন্য।
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল রাশেদ। পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে, পকেটও একদম খালি। কিন্তু পাশের রুমে মায়ের শান্ত ও সুস্থ নিশ্বাসের শব্দটা শুনে তার মনে হলো, পৃথিবীর সব পরিকল্পনা সফল হওয়ার দরকার নেই। কখনো কখনো সব হারিয়ে প্রিয় মানুষকে ফিরে পাওয়ার নামই সবচেয়ে সফল পরিকল্পনা।
রাশেদ মুচকি হাসল। কলামের নামটা বদলে লিখল—‘বেঁচে থাকার লড়াই’। আগামীকাল থেকে আবার শূন্য থেকে শুরু হবে, এটাই তো মধ্যবিত্তের জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।