
রাতের খাবার খেয়ে বের হয়েছি।দেশের প্রথম জেলা যশোর শহরে। নভেম্বর শেষ হয়ে আসছে। গরমের তেজ বেশ কম, হালকা শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে।
রাতের শহর দেখার আলাদা মজা আছে। আধো আলো আধারিতে শহরের একটা ভিন্ন রূপ থাকে। এর কিছু যদি ধরতে পারি। অফিসের কাজে কুষ্টিয়া হয়ে যশোরে এসেছি। যশোর এর আগে অনেকবার আসা হয়েছে। তবুও কি দেখার ইচ্ছে মরে যায়! যায় না।
দড়াটানা মোড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। শহরের এদিকটা অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকে। দড়াটানা নদীর উপরে ব্রিজ। কালেক্টরেট অফিস পর্যন্ত বেশ সুন্দর রাস্তা, প্রশস্ত ফুটপাথ রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, যশোরের সেরা দুধ চা খাওয়া।
এক টং দোকানে গিয়ে দাঁড়ালাম। চা বিস্কুট বেঁচে। ভালো দুধ চা হবে? দোকানদার জানালো, আপনারা বরং ঐপারে মিলনের দোকানে যান। ওয়াটার বোর্ড তারকাটা দিয়ে তাদের জমির সীমানা ঘিরে রেখেছে। সেটার ভিতরে মিলনের টং। একটা অংশে তারকাটা নেই। মিলনের টং এ ঢুকলাম।
দারুণ দুধ চা করে মিলন। সাথের দুয়েক জন দ্বিতীয় কাপ অর্ডার করেছে। সব গোয়ালাই তো তাঁর দুধকে সবচেয়ে খাঁটি বলে। সব কোম্পানি তো নিজের প্রডাক্ট নাম্বার ওয়ান বলে নিজেই সার্টিফিকেট দেন। এরপর ঢোল পিটিয়ে প্রচারও (টিভিতে, অনলাইনে, পেপারে সেসব চলে) করেন। প্রথম দোকানদার চা বেচলে দুই টাকা হলেও লাভ হত। কিন্তু সেটা করলেন না। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী চায়ের দোকানের খোঁজ দিলেন। এই হল, আমাদের সাধারণ মানুষের আসল রূপ।
মণিহার সিনেমা হলের সামনে এসে সবাই নস্টালজিক হয়ে গেলাম। আমাদের শৈশবে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল রেডিও।রেডিও তে একটা সিনেমার গান শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম। রেডিওর অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে সিনেমার বিজ্ঞাপন প্রচার হত। আর সে বিজ্ঞাপন মানে গাজী মাজহারুল ইসলামের দরাজ কণ্ঠে ঘোষণা, হ্যাঁ ভাই, সর্ববৃহৎ সিনেমা হল মণিহারসহ সারা দেশে একযোগে চলবে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন পরিচালিত সময়ের সেরা নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও বাংলা সিনেমার সুইট গার্ল মৌসুমি জুটির সুপার ডুপার হিট 'আদরের সন্তান'...আদরের সন্তান... আদরের সন্তান...। আসিতেছে আসিতেছে...।
কখনও মণিহারে সিনেমা দেখার সুযোগ পাইনি। বাইরে থেকে মনে হল, সেই মণিহার আছে বটে, জৌলুশ নেই মোটেও।