Posts

গল্প

সালাম দেওয়ার ঘটনা

February 17, 2026

Md. Anwar kadir

23
View

ঘটনা অনেকদিন আগের৷ আজ থেকে প্রায় বিশ বছর হবে। আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে বা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। পড়াশোনা নামেই হতো। সারাদিন খেলাধুলায় মেতে থাকতাম। 
তবে একটা জিনিস অসাধারণ ছিলো তখন। গুরুজনকে শ্রদ্ধা করার বিষয়টি আমরা খুবই অনুসরণ করতাম। 
কাউকে চিনি বা না চিনি, সালাম দিতাম। দেখতে মুরুব্বি মনে হলেই সালাম দিতাম। 
স্কুলের শিক্ষকগণ এটা শিখিয়েছেন। কেউ মুসলিম হলেই সালাম দিতে হবে। আর অমুসলিম হলে আদাব। 
বর্তমান সময়েও অনেকে সালাম দেয়। তবে তরুণদের মাঝে জিনিসটা অন্য রকম হয়ে গেছে। তারা এই বিষয়ে এতটা সিরিয়াস না। 
একদম চেনা-জানা শিক্ষক না হলে সালাম দেয়না বা কম দেয়। 
আর অপরিচিত কাউকে সালাম দেওয়াটা তাদের মাঝে কেমন যেন একদম একটা বিরল কাজ। 
সেদিন খেলাধুলা করছিলাম আমরা অনেকগুলো ছেলে। ক্রিকেট খেলছিলাম৷ আমাদের মাঝে দুয়েকজন বয়সে আমার চেয়েও বড় ছিলো। 
একটা পর্যায়ে একজন মুরুব্বি আমাদের সামনে দিয়ে চলে যান। আমরা খেলা বন্ধ করে ফেলি। মুরুব্বিও আমাদের কাছে এসে তার সাইকেল থেকে নেমে হেটে যান। 
হয়ত আমাদের সবার মনেই আসছিলো সালাম দেওয়ার কথা। কিন্তু সবাই ভাবছিলো, কেউ একজন সালাম দিবে। 
একদল মানুষ থেকে একজন দিলেই তো হয়ে যায়। কিন্তু কেউই দেয়না। সবাই একে অপরের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকি। মুরুব্বি আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় পেছন ফিরে তাকালেন এবং আমাদেরকে সালাম দিলেন। 
আমরা উনার সালাম দেওয়া নিয়ে সবাই অবাকে হয়েছি। 
তবে আমাদের মাঝে যে বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলো, তিনি বললেন যে মুরুব্বি আমাদেরকে সালাম দেওয়ার মাধ্যমে লজ্জা দিয়েছেন। এতজনের মাঝে কেউই সালাম দেইনি, লজ্জাটা আমাদের প্রাপ্য।
যাইহোক। এরপর থেকে আমি খুবই সাবধান হয়ে গেছি৷ চেষ্টা করি যেন কোন মুরুব্বিই আমাকে সালাম দিয়ে লজ্জা দিতে না পারেন। 
আমাদের নবীজি সা: সব সময় আগে সালাম দিতেন। 
তার হাদিস অনুযায়ী যে আগে সালাম দেয়, সে অহংকার থেকে মুক্ত। 
আর অহংকার তো শয়তানের প্রকৃতি।

Comments

    Please login to post comment. Login