Posts

নন ফিকশন

ঢাকা-১২ তে ওরা ১১ জন

February 19, 2026

সাজিদ রহমান

14
View

যদিও দেশে কিরিকেট বেশি-পছন্দ, খেলা এখন মুলতবীতে আছে। ১১ জনের খেলায় একজন 12th (টুয়েলফথ) ম্যান থাকে, যার কাজ রানিং খেলোয়াড়দের পানি টানা, মেসেজ আদান প্রদান করা।

সংখ্যার হিসেবে ঢাকা-১২ নিজে 12th (টুয়েলফথ) ম্যান। সেখানে ভোটে খাড়াইছে পাক্কা ১১ জন। ১১ জনে একটা ফুটবল টিম হয়ে যায়। খেলায় ১১ জন একদল হয়ে খেললেও এখানে সবাই সবার বিপক্ষে খেলতেছে। এই খেলার এই-ই নিয়ম।

প্লেয়ার ১১ জন হলেও এই খেলায় মূল স্ট্রাইকার ৩ জন। অনেকটা সেই M-S-N বা মেসি সুয়ারেজ নেইমার ট্রায়োর মত। তবে গোল একটাই হবে। এই খেলার এই এক নিয়ম। গোল এই তিন জনের যেকোন একজন করবেন। বাকিরা খেলায় গোলকিপার, ডিফেন্স, মিডফিল্ডারের ভূমিকায় ৯০ মিনিট দৌড়াবেন। নাটকের পার্শ্ব চরিত্রের মত উনারাও খুবই গুরত্বপুর্ন। ।

তবে এই মাঠে M-S-N নেই, আছে S-S-S মানে ট্রিপল এস (৩ জনই সাইফুল), অল্পের জন্য অবশ্য রেসলিং এর Triple H হয়নি। তবে খেলা মল্লযুদ্ধের চেয়ে কম হবে না।

সেই ট্রিপল এস (৩ স্ট্রাইকার) এর ১(এক) সাইফুল পূরাই নীরব। মানে সাইফুল আলম নীরব। নীরব হলেও খেলার মাঠে তিনি ফুটবল সাপ্লাই দিয়ে খেলাকে চালু রেখেছেন। সাইফুল আলম নীরবের মার্কা ফুটবল। তিনি অবশ্য বহুকাল ধরে জমি চাষ করেছেন ধান চাষের জন্য। কিন্তু শেষে মালিক চাষের জমি আরেকজনকে লিজ দেয়ায় ফুটবল নিয়ে নেমে পড়েছেন। নামে তিনি নীরব হলেও খেলায় উনার সরব অবস্থা, বেশ আশাব্যঞ্জক।

সাইফুল আলম নীরব এর চাষের জমি নতুন করে লিজ নিতে আরেক সাইফুলকে বিপ্লব করতে হয়েছে। তিনি বিপ্লবী সাইফুল। এই সাইফুল মানে সাইফুল হক বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির লোক। ভালো ধান চাষের আশায় কোদাল হাতে নেমে পড়েছেন।

৩য় সাইফুল বিরহ একদম পছন্দ করেন না। তিনি নিজে মিলন, চান পৃথিবীর (আলম মানে দুনিয়া) মিলন। আদতে উনার নাম সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি চান না হল্লা, কেননা তিনি উনি চান সবাই খেলা বাদ দিয়ে পাল্লায় উঠুক। ওটাই তাঁর খেলা।

সব জায়গার মত এখানেও একজন চৌধুরী আছে। আবুল বাশার চৌধুরী। উনি খেলার মাঠে ট্রাক ঢুকিয়ে দিয়েছেন। অনুমতি নিয়েছেন গনধিকার পরিষদের।

বাংলাদেশের কমুনিস্ট পার্টির কল্লোল বণিক আছেন কাস্তে নিয়ে। তাসলিমা আকতার মাথাল নিয়ে খেলায় সংহতি জানিয়েছেন। যারা মহাবর্গীয় বর্ন 'থ' বলতে গিয়ে 'ত' বলে ফেলেন, দয়া করে তাসলিমারে 'ভুলে' 'মাতাল তাসলিমা' বলবেন না, দোহাই লাগে।

খেলার মাঠে কলম নিয়ে আছেন ফরিদ আহমেদ, ক্লান্ত প্লেয়ার দিয়ে হাতপাখার বাতাসে প্রশান্তির বন্যা বয়ে দিতে চান মাহমুদুল হাসান। ছড়ি দিয়ে অবলার সহায় হতে চান মুনতাসির মাহমুদ। এনডিএম এর সিংহ নিয়ে হাজির মোমিনুল আমিন।

লাঙ্গল নিয়ে হাজির সরকার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সালমার হাতে আপেল, নাঈম হাসান জাতিকে উপহার দিতে চান কাঁঠাল। দিবারাত্রির আঁধার কাটিয়ে মোমবাতি হাতে এগিয়ে এসেছেন মোহাম্মদ শাহজালাল।

১১ নম্বর খেলোয়াড় হলেন আমজনতার তারেক রহমান। তিনি প্রজাপতি দিয়ে জাতির মনে রঙ্গিন স্বপ্ন বুনতে চান।

দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়!

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ 

Comments

    Please login to post comment. Login