মহসিন তার সোহাগ নামের এক বন্ধুর সাথে আদালত চত্বরে এসেছে। সোহাগ ছাত্র মানুষ। শুধু শুধু মামলা খেয়েছে।
আসলে তার চাচার একজনের সাথে জমি নিয়ে ঝামেলা চলছে। ওই লোক মামলা টুকে দিয়েছে। সাথে যোগ করে দিয়েছে সোহাগের নামটাও।
মসহিন এই বিষয়টি নিয়ে অবাকই হয়েছে৷ কারণ যেদিন মারামারি হয়েছে বলা হয়েছে মামলার এজাহারে সেদিন তারা উভয়েই ভার্সিটিতে ছিলো। অথচ ইনিয়ে বিনিয়ে সোহাগের নামে অনেক কিছুই লেখা হয়েছে। যে লিখেছে সেই বা কেমন মানুষ!
আসলে ওই লোকটাই চাচ্ছে যেন, ওই জমি থেকে সোহাগ চাচা সরে আসে। এই জন্যেই সোহাগকে ফাসিয়েছে।
তবে, মহসিন আরো অবাক হয়েছে মামলার বাদীকে দেখে। সাদা চুল-দাড়ি, দেখতে একদম পীর সাহেব৷ সে সোহাগকে দোষী ভাবতে শুরু করলো।
এমন একজন ব্যক্তি মিথ্যা মামলা করতে পারে তা কিছুতেই মহসিন মেনে নিতে পারছেনা৷ তাই সে বিষয়টি নিয়ে বার বার সোহাগকে প্রশ্ন করলো।
কিছুক্ষণ পরে খেয়াল করলো অন্য মামলা চলছে। তবে তাদের মামলার বাদীকে কানে ধরিয়ে দাড় করিয়ে রাখা হয়েছে আদালত চত্বরে। কাজটি আর কেউ করেনি। বিচারক নিজেই করেছে।
আসলে বাদী মুরুব্বি বিচারকের সামনে সবার মাঝে বসে পায়ের উপর পা তুলে ধুমপান করছিলেন৷ এটা বিচারকের চোখে পড়তেই তাকে শাস্তি দিয়েছেন।
এই ঘটনা দেখে মহসিন মনে মনে হাসলো। সে এতক্ষণ লোকটাকে পীর সাহেব ভাবছিলো। সে বুঝতে পারলো যে এই দাড়িওয়ালা লোকের দ্বারা অনেক অপরাধ করাই সম্ভব।
এতক্ষণ লোকটাকে অসহায় মনে হলেও এখন আর তেমন মনে হচ্ছেনা। সু্যোগ পেলে এসব মানুষ অন্যের ক্ষতি করতে পারে।
ইসলামী লেবাস নিয়ে চলে মানুষকে ধোকা দেয়। ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এরা ইসলামকে শরীরে হয়ত ধারণ করে। কিন্তু অন্তরে ধারণ করেনা।
লোকটার চুল-দাড়ি সাদা হয়ে গেলেও আল্লাহর ভয় অন্তরে আছে বলে তাকে দেখে মনে হচ্ছেনা।
18
View