
ক্লাশ শুরুর ১ সপ্তাহ পর আমি যখন ইউকে'র মাটিতে পা দেই। দেশ থেকে Atkinsons Guest House (129, Stoke Road) এ ২ দিনের বুকিং দিয়েছিলাম (এরপরে রুম খালি ছিল না)। ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২ টার পর আমার কোন ঠিকানা নেই। ঘটি-বাটি লোটা-কম্বল নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছি। তখনও জানিনা রাতে কোথায় থাকবো। খোদ ইংল্যান্ডের মাটিতে গৃহহীন অবস্থা। ভরসা মাইনুল ভাই, তাঁর অপেক্ষায় আছি। সেই মাইনুল ভাইয়ের গল্প বলতেই এই লেখা।
মাইনুল ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয় দৈবক্রমে। বাংলাদেশ থেকে ৮ হাজার কিলোমিটার দূরের এক শহরে এসেছি, যেখানে কাউকে চিনি না। Atkinsons এ কয়েক ঘণ্টা রেস্ট নিয়ে বের হয়ে পড়ি। দৈবচয়নে (আল্লাহর ওয়াস্তে) একদিকে হাটা শুরু করি। মিনিট কয়েক পরে, একটা ছেলেকে ভারতীয় মনে হল। বাংলাদেশি কোন কিছু জানো নাকি, প্রশ্ন করায় সে আমাকে সাদিয়া গ্রোসারি (47 Woodbridge Hill) তে যাওয়ার পরামর্শ দিলো। সেখানে পরিচয় হল ফায়েজ ভাইয়ের সাথে। তিনি মাইনুল ভাইয়ের নাম্বার দিলেন। মাইনুল ভাইকে ফোন দিলাম। বিস্তারিত জানালাম।
২।
টাউন সেন্টারের The Friary Guildford এ মাইনুল ভাইয়ের সাথে প্রথমবার দেখা হল। উনি সেখানে থাকতে বলেছিলেন। জানুয়ারির ৯ তারিখ স্কলারশিপের রেজাল্ট দেয়, ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখে লন্ডনের ফ্লাইট ধরি। কর্মসূত্রে অবস্থান রংপুরে। এই এক মাসে ঢাকা-রংপুর-ঢাকা ছুটে যাবতীয় কাজ করতে হয়। ছুটি মঞ্জুর ও ভিসা পেতে কত ঝুট ঝামেলা পোহাতে হয়। যক্ষ্মার টেস্ট থেকে বিয়ের কাবিন নামা সবই হালনাগাদ করি (পরে পরিবারের ভিসা প্রসেস করতে)। গিল্ডফোর্ডে পরিচিত কাউকে খুঁজবো, সেই ফুরসত পাই নি।
প্রথম সাক্ষাতে মাইনুল ভাই বললেন, উনি আছেন, চিন্তার কারণ নেই। এরপরের পূরা দুই দিন আমাকে সময় দিলেন। ব্যাংকে একাউন্ট খোলা, ভার্সিটির ডর্মে আবেদন, ল্যাপ-কাথা, হান্ডি-পাতিল থেকে শুরু করে যাবতীয় তৈজসপত্র উনি সাথে থেকে কিনে দিলেন। ছোট শহর গিল্ডফোর্ডকে একটু করে চিনতে থাকলাম। গৃহহীন এই আমাকে রুম দিলেন থাকার জন্য। সেখান থেকে ভার্সিটির ডর্মে উঠি।
মাইনুল ভাই মাদারীপুরের সন্তান। উচ্চ মাধ্যমিকের পর দেশ ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। গন্তব্য ছিল ম্যানিলা। এক সময় চলে যান সুইজারল্যান্ডে। উনার জীবনের গল্পের বেশ কিছুটা শুনেছিলাম। সেটাকে উপজীব্য করে দুর্দান্ত থ্রিলার লেখা যাবে। লম্বা সময় সংগ্রাম করেছেন। এরপর ইংল্যান্ডে এসে থিতু হন। গিল্ডফোর্ডে বাংলাদেশিদের একটি চমৎকার কমিউনিটি আছে। নিয়মিত বিরতিতে উনারা মিলিত হন। হই হুল্লোড় করেন। বছর জুড়ে বিভিন্ন প্রোগ্রাম আয়োজন করেন। সেই কমিউনিটিকে একটি পরিবারের মত মনে হয়। বলতে গেলে মাইনুল ভাই সেটাকে ধরে রেখেছেন। মাইনুল ভাই গিল্ডফোর্ডের প্রাণ।
৩।
২০২২ এ আবার যখন ইউকে-তে যাই, মূলত উনি-ই ছিলেন হোসট। আবারও সেই মাইনুল ভাইকে পাই। তখনও ভুলিনি, সেই সময়ে কতভাবেই না তিনি এগিয়ে এসেছেন। কোন কিছুর দরকার? আছেন মাইনুল ভাই। Tesco তে গিয়ে মাইনুল ভাইকে ধরি। কাজ হয়ে যায়। ২০২০ এর শুরুতে দেশে চলে আসবো। মাইনুল ভাই বললেন, ভাই এখানে থেকে যান। সত্যিকার অর্থে উনি চেয়েছিলেন।
মাইনুল ভাইকে কোনদিন বলা হয়নি। ধন্যবাদ দেয়া হয়নি।Thank you so much, brother. I truly appreciate your insight and personality.