সাগর কন্যা পর্ব -১
সালটা ২০১৮ এক সাকালে সাগরের গর্জনের হুস ফেরে আমিরের সে এতক্ষন কল্পনার জগতে ছিলো সে কল্পনায় কাকে দেখেছে সে সেটা নিজেও জানে না। সে আজ সাগরের তীরে ঘুরতে এসেছে কেন এসেছে সে সেটা নিজেও জানে না তার জীবনটা বড্ড বিস্বাদ কোনো বন্ধু নেই নেই কোনো পরিবার। তার পরিবারে ছিলো তার বোন ও তার বাবা-মা তবে এক ভয়ংকর গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় তারা ভাগ্য ক্রমে বেচে যায় আমির সেই থেকে সে চুপচাপ হয়েছে এখন আর সে হাসে না তার বন্ধু মাত্র দুইজন তাদের সাথেও সে খুব বেশি কথা বলে না সে একা একটা বাড়িতে থাকে তার বড় খালা তাকে তাদের বাড়িতে রাখতে চেয়েছিলো তবে সেই থাকতে চায়নি তার কথা অনুযায়ী বাচলে এই বাড়িতে বাচবো মরলে এই বাড়িতে মরবো। আজ তার কেন যেন সমুূ্দ্রে আসতে ইচ্ছা হলো তার মনে হচ্ছে কেউ যেন তাকে টানছে। সে বসে আছে সমুদ্রের তীরে হঠাৎ সে নুপুরে শব্দ শুনতে পায় মনে হচ্ছে যেন শব্দটা সমুদ্রের নীচ থেকে আসছে সে প্রথমে পাত্তা না দিলেও হঠাৎ তার মনে হলো কেউ হয়তো সমুদ্রে তলিছে যাচ্ছা এক মুহুর্তেই সে দাড়িয়ে পড়লো সে কি করবো বুঝতে পারছে না। বেশি কিছু না ভেবে সে সমুদ্রে ঝাপ দিলো তবে সে কিছুই পেলো না তার দম আটকে আসছে তাই সে উপরে উঠে এলো সে ভাবলো হয়তো তার কোন ভুল হচ্ছে তাই সে মাটির উপরে যেতে লাগলো তবে সে উঠতে গিয়ে দেখতে পায় একটা পা ভেসে আসছে সে আবার সমুদ্রের মাঝে চলে গেলো এবং ঐ পাটা ধরে জোরে টান মারলো পাটা টেনে তীরে নিয়ে আসলো এরপর সে দেখতে পেলো সেটা একটা মেয়ে যার পরনে কালো রংএর পোসাক । পোসাকটা বেশ অদ্ভুত এমন পোসাক সে আগে কখনো দেখেনি মেয়েটা জিবিত নাকি মৃত পরিক্ষা করার জন্য সে তার নাকের কাছে হাত বাড়ায় সে জিবিত বুঝতে পেরে সাথে সাথে তাকে বড়ি নিয়ে যায় আমির। বাড়ি পৌঁছেই প্রথমে আমির মেয়েটির পোসাক পালটে দেয় পোসাক পালটানোর সময় এক বারের জন্য তার দিকে তাকয় নি আমির তার নারীদের প্রতি কোনো প্রকার লোভ লালশা নেই তার পরিবার মৃত্যুর পর সেও যেন মৃত প্রায়। মেয়েটি জামা পালটে আমির চলে যায় রান্না ঘরে মেয়েটিকে গরম কিছু খাওয়াতে হবে সে কি বানাবে ভেবে পাচ্ছে না এরপর সে খিচুড়ি রান্না করে। রান্না যখন শেষের পথে এমন সময় মেয়েটার জ্ঞান ফিরে তার হালকা কুকরানোর শব্দ পৌছায় আমিরের কাণে সে হন্ত দন্ত হয়ে ছুটে যায় মেয়েটির কাছে মেয়েটি সবে মাত্র চোখ খুল্ল আপছা আপছা ভাবে সে আমিরকে দেখে চমকে গেলো সাথে সাথে সে শোয়া থেকে বসে পরলো।
আমির তাকে বল্ল ভয় পেয়ো না আমি তোমারক্ষতি করবো না
মেয়েটি বল্ল আমি কোথায়
আমির বল্ল আমাদের বাড়িতে
মেয়েটি বল্ল আপনাদের বাড়িতে আমি কিভাবে এলাম
এরপর আমির তাকে বল্ল তুমি ডুবে যচ্ছিলে আমি তোমাকে বাচিয়ে এনেছি
মেয়েটি চুপ করে রইলো সে আশপাশ দেখছে। কিভাবে যেন দেখছে মনে হচ্ছে যেন সে এসব প্রথম বার দেখছে
নীরবতা ভেঙ্গে আমির জিজ্ঞেস করলো তোমার নাম কি
মেয়েটি আমতা আমতা করে বল্ল আমার নাম সাগরিকা
আমির মুচকি হেসে বল্ল সুন্দর নাম
আমির আবার বল্ল তোমার বাড়ি কোথায়
সাগরিকা বল্ল সাগরে
আমির বিস্মিত হয়ে বল্ল কী!
সাগরিকা বল্ল না না মানে সাগরের তীরে
আমির বল্ল সাগরের পারে বাড়ি তারপরও তুমি সাতার জানো না
সাগরিকা আর কিছু বল্ল না। আমির চলে গেলো খাবার আনতে
পর্ব -২ এর জন্য অপেক্ষায় থাকুন