রক্ত দিয়ে নাম লেখা বা এ জাতীয় আবেগঘন এবং কিছুটা রোমাঞ্চকর থিম নিয়ে একটি উপন্যাসের রূপরেখা এবং শুরুর অংশ নিচে দেওয়া হলো। এই গল্পটিতে আমরা প্রেম, বিচ্ছেদ এবং প্রতিজ্ঞার এক সংমিশ্রণ দেখব।
উপন্যাসের নাম: লাল কালির শেষ চিঠি
ধরণ: রোমান্টিক থ্রিলার / ড্রামা
মূল চরিত্রসমূহ:
* অনির্বাণ: একজন জেদি এবং আবেগপ্রবণ চিত্রশিল্পী।
* নীলাঞ্জনা: শান্ত স্বভাবের একটি মেয়ে, যে বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
* রাশেদ: গল্পের খলনায়ক, যার ক্ষমতার দাপটে অনির্বাণ আর নীলার দূরত্ব তৈরি হয়।
কাহিনীর সারসংক্ষেপ (Plot):
অনির্বাণ বিশ্বাস করে ভালোবাসার কোনো শেষ নেই। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে নীলাঞ্জনাকে বিয়ে করতে হয় এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর ছেলেকে। বিয়ের আগের রাতে অনির্বাণ নীলার সামনে এসে দাঁড়ায়। সে কোনো উপহার চায় না, শুধু চায় নীলার মনে নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ রেখে যেতে। সে তার আঙুল কেটে নিজের রক্ত দিয়ে একটি সাদা ক্যানভাসে নীলার নাম লিখে দেয়। বছর দশেক পর সেই রক্তে লেখা নামই হয়ে ওঠে এক বিশাল রহস্যের চাবিকাঠি।
প্রথম পরিচ্ছেদ: হৃদয়ের রক্তক্ষরণ
শহরজুড়ে আজ উৎসবের আমেজ, শুধু অনির্বাণের চিলেকোঠার ঘরটায় অন্ধকার। বাতাসের ঝাপটায় জানালার পর্দাগুলো পাগলের মতো উড়ছে। টেবিলের ওপর রাখা সাদা কাগজটা যেন অনির্বাণকে উপহাস করছে।
নীলার আজ বিয়ে। যে হাতে অনির্বাণ মেহেদির রঙ দেখতে চেয়েছিল, সেখানে আজ অন্য কারো নামের আদ্যক্ষর বসবে। অনির্বাণ আলমারি থেকে একটা ছোট ধারালো ছুরি বের করল। তার চোখে জল নেই, আছে এক অদ্ভুত স্থিরতা।
সে বিড়বিড় করে বলল, "নীলা, তুমি বলেছিলে সময় সবকিছু মুছে দেয়। কিন্তু আমি এমন এক কালিতে তোমার নাম লিখব, যা সময় কেন, স্বয়ং ঈশ্বরও মুছতে পারবেন না।"
ছুরির ফলাটা বাম হাতের তর্জনীতে বসাল সে। ব্যথায় কুঁচকে গেল কপাল, কিন্তু হাত কাঁপল না। টপটপ করে লাল রক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগল টেবিলের ওপর রাখা ধবধবে সাদা কাগজটার ওপর। অনির্বাণ গভীর মনোযোগ দিয়ে সেই রক্তে লিখতে শুরু করল— নী-লা-ঞ্জ-না।
লাল রঙটা কাগজের আঁশ ভেদ করে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। সাধারণ কালির মতো এটা শুকিয়ে ফ্যাকাশে হবে না, অনির্বাণের বিশ্বাস এটা তার হৃদয়ের স্পন্দনের মতো জীবন্ত থাকবে।
গল্পের মোড় (Twist):
দশ বছর পর নীলাঞ্জনা যখন বিধবা হয়ে ফিরে আসে, সে অনির্বাণের সেই পুরনো স্টুডিওতে একটি ধুলোবালি মাখা ক্যানভাস খুঁজে পায়। সেখানে রক্তে লেখা তার নামটি তখনো উজ্জ্বল, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—সেই নামের নিচে আজ নতুন করে একটি তারিখ ফুটে উঠেছে। তারিখটি আজকের!
অনির্বাণ কি তবে ফিরে আসছে? নাকি এই রক্ত দিয়ে নাম লেখার পেছনে লুকিয়ে ছিল অন্য কোনো প্রাচীন অভিশাপ?
আপনি কি চান আমি এই উপন্যাসের পরবর্তী অংশ বা দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ লিখে দিই?
23
View