Posts

গল্প

হাদিস কি ইসলামী জ্ঞানের নির্ভরযোগ্য উতস না?

March 1, 2026

Md. Anwar kadir

21
View

মাহবুব ভাই যখন কথা বলতে শুরু করেন আর থামেন না। বকবক করতেই থাকেন। এ ধরনের মানুষের এই একটা সমস্যা। নিজের জ্ঞান জাহির করেন খুবই এক্সপার্ট।
ইসলাম সম্পর্কে উনার ধারণা খুবই অস্বচ্ছ। তবে এমনভাবে কথা বলেন যেন সবই উনার জানা। উনি বলতে থাকলেন হাদিস সম্পর্কে। হাদিসের উপর উনার ভরসা নেই৷ এটি দুই-আড়াইশত বছর পরে লেখা হয়েছে।  কিসের দুই-আড়াইশত বছর লেখা হয়েছে, তা বলেন না।  উনার কথার ভাব শুনে হচ্ছিলো উনিই সব জানেন। আর এইসব বিষয়ে কেউ কিছুই জানেনা। 
আমি উনাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম,"ভাই৷ বিষয়টিতে আমার ধারণা আছে। আপনি ভুল বলেছেন। হাদিস নবীজি সা: এর জীবদ্দশাতেই লেখা শুরু হয়েছে। হয়ত একত্র করা বা সংকলনের কাজ পরে করা হয়েছে। 
নবীজি সা: প্রথমে কোরানের সাথে যেন হাদিস একাকার না হয়ে যায় সেজন্য তা লিখতে নিষেধ করেছিলেন। পরে আবার অনুমতিও দিয়েছিলেন। ফলে কোরানের পাশাপাশি হাদিসও উনার জীবদ্দশায় লেখা শুরু হয়েছিলো।"
এবার উনি আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,"আপনি কিছুই জানেন না। ছয় লক্ষ হাদিস বাতিল হয়েছে। হাদিস ইসলামের কোন নির্ভরযোগ্য উতস না।"
আমার তো মেজাজ ধরে রাখা কঠিন হয়ে গেছে। মুরুব্বি মানুষ। ফালতু কথাই বেশি বলছেন। পড়াশোনা তো কিছুই করেননি৷ উল্টাপাল্টা কথা বলেন ফেসবুক ভিত্তিক জ্ঞান থেকে। 
প্রশ্ন করলাম,"আপনি আমাকে শুধু এটা বলেন যে, কে ছয় লক্ষ হাদিস বাতিল করেছেন আর কেনই বা বাতিল করেছেন।"
উনি বললেন,"যেই করেছে, বাতিল তো হয়েছে। তাইনা?"
আমি বললাম,"আপনি না জেনেই কথা বলছেন। এটা বাতিল করা না। 
ইমাম বুখারী (রহ:) ছয় লক্ষ হাদিস মুখস্থ করেছিলেন। তিনি এগুলোকে বই আকারে লিপিবদ্ধ করেন বিভিন্ন চাপ্টার অনুসারে। তিনি খেয়াল করলেন, নির্দিষ্ট চাপ্টারের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল হাদিস না লিখলেও চলে। তাই তিনি শত শত হাদিস থেকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হাদিসগুলোকে তার বইতে স্থান দিয়েছেন। 
তিনি বইটিকে ছোট এবং সহজে পড়ার উপযোগী করতে চাইলেন। তাই অনেক হাদিস তার বইতে আনেননি। ফলে বুখারী শরিফে হাদিস এসেছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার। বলতে পারেন বাকিগুলো এতে আনার প্রয়োজন পড়েনি। তার মানে এই নয় যে, উনি বাকি হাদিসগুলোকে বাতিল বলে ঘোষণা করেছেন।"
উনি বললেন,"কিন্তু কথাটা আমার তো নয়। অনেক মুসলমানের মুখেই এসব কথা আমি শুনেছি৷ আমি তো আর না জেনে বলছিনা।"
জবাবে বললাম,"আমি যে কথা বলেছি আপনি তা যাচাই করেন৷ আপনি ইমাম বুখারীর নামটাই বলতে পারেননি৷ উনার পরেও অন্য স্কলাররা হাদিস সংগ্রহ ও সংকলন করেছেন। তারাও নির্ভরযোগ্য।
কেবল অস্পষ্ট ধারণার ভিত্তিতে কথা বললে তো হয়না, ভাই। 
আর এসব কথা অনেক মুসলমানরা না জেনেশুনেই বলে থাকে। আপনার মতো অল্প জেনেই বলে। আর ইসলাম বিদ্ধেষীরা এসব প্রচার করে বেড়ায়। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা।"
যাইহোক, মাহবুব ভাই একটু থামলেন। আমাদের সমাজে এমন অনেক মহাজ্ঞানী ব্যক্তি আছে যারা নিজের জ্ঞান জাহির করতে গিয়ে যে বিষয়ে কিছুই জানেনা তাও বলতে থাকে। আল্লাহ সবাইকে প্রকৃত জ্ঞান দান করুন।

Comments

    Please login to post comment. Login