মাহবুব ভাই আবার প্যাচাল শুরু করে দিয়েছেন। ব্য়স উনার চল্লিশের কাছাকাছি। হয়ত উনাকে বয়সে ধরে বসেছে, তাই বকবক করেন। সব কথার জবাবা দিতেও মন চায়না আমার।
উনি বললেন,"এসব দাড়ি-টুপি-পাঞ্জাবি বিদেশি কালচার, আরবীয় কালচার। আমাদের দেশীয় কালচার না। আমাদের নিজস্ব কালচারে অসুবিধা কি?"
আমি বললাম,"ভাই। সভ্যতা-সংস্কৃতি তার নদীর স্রোতের মতোই বয়ে চলে। এটা পরিবর্তনশীল। ধরে রাখতে পারবেন না।
আর আমাদের পূর্বের আর্য বা অনার্যরাও এখানে বাইরে থেকে তাদের সংস্কৃতি নিয়ে এসেছে। তাই আমাদের সবই বলতে পারেন বিদেশী সংস্কৃতি। এটাই বাস্তবতা।"
উনি বললেন,"আমাদের মেয়েরা শাড়ি-ব্লাউজ পড়লে সমস্যা কি? কেন থ্রি-পিস পড়বে?"
আমি বললাম,"অনেকেই তো পড়ে থাকে। কেউ মানা করতে তো দেখিনা। মুসলিম সমাজের সাথে এটা যায়না। শাড়ি-ব্লাউযে মেয়েদের শরীর দেখা যায় বলে মুসলিম মহিলারা তা পড়েনা।"
উনি আবার যোগ করলেন,"এসব আপনারা ইদানীং শুরু করেছেন। আজ থেকে বিশ-ত্রিশ বছর আগে এদেশের মুসলিম মহিলারা অর্ধ-উলঙ্গই থাকতো।
এমনকি একই পুকুর ঘাটে নারী-পুরুষ অর্ধ-উলঙ্গ হয়ে গোসল করতো। তখন তো কারো ইমান চলে যায়নি। এখন আপনাদের এত সমস্যা হয়?"
এমন সব কথা শুনলে মেজাজ ঠিক থাকে? তারপরও ঠান্ডা মাথায় বললাম,"ভাই। আগেও অনেক নারী পর্দা করতেন। এখন হয়ত বেশি করেন। আর সময়ের সাথে সাথে সবাই ইসলাম সম্পর্কে আরো বেশি জানবে। নিয়ম-কানুন বেশি পালন করবে। এটাই স্বাভাবিক।
সময়ের সাথে সাথে সভ্যতা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এখন আর কেউ পুকুরে অর্ধ-উলঙ্গ হয়ে গোসল করেনা। শালীনতার সম্পর্কে মানুষের ধারণা পালটে গেছে৷ ইসলাম এখানে একটা ফ্যাক্টর। তবে পরিবর্তনটা আপনি আটকাতে পারবেন না। পরিবর্তনটাই শ্বাশত।"
উনি বললেন,"ইসলামের সবকিছুতেই কেমন যেন বাড়াবাড়ি। তা হবে কেন?"
বললাম,"এটা আপনার কাছে মনে হয়। আপনি পুরোপুরি ইসলামের সাথে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। উল্টো চেষ্টা করছেন ইসলামকে আপনার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে। লাভ কিছু হবে বলে আমি মনে করিনা৷
আপনি আপনার অন্তরকে ইসলামের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে তারপর ইসলাম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন। আশা করি আল্লাহর আপনার অন্তরকে প্রশস্ত করে দিবেন।"
8
View