Posts

গল্প

তাবিজ ব্যবহার সমাচার

March 5, 2026

Md. Anwar kadir

11
View

লালমিয়া চাচা অনেক খুজে শিশিরকে বের করলো। 
উনি পীরবাবার কাছ থেকে উনার ছেলের জন্য 
একটা তাবিজ এনেছেন। সেটা নিয়ে কথা বলতে চান।
শিশির নামাজী এবং পড়ালেখা করা ছেলে। তাই তার কাছে
পরামর্শ করতে আসলেন। 
উনার ছেলেটা রাতে উল্টাপাল্টা স্বপ্ন দেখে প্রায়ই ভয় পায়।
বয়স প্রায় পনেরো-ষোলো। 
আগে একটা তাবিজ নিয়েছিলেন ইমাম সাহেব এর কাছ
থেকে। সেটায় তেমন কাজ হয়নি। তাই এবার
পীরবাবার কাছ থেকে একটা নিয়েছেন।
শিশির সব কথা শুনে তাকে ডাক্তার দেখাতে পরামর্শ দিলো।
লালমিয়া চাচা জানালেন যে, ডাক্তার ইতোমধ্যে দেখানো হয়েছে।
ডাক্তার কিছু ভিটামিন ঔষধ দিয়েছেন। সেগুলো সে খাচ্ছে। কিন্তু এখনো ফল পাচ্ছেনা৷ 
শিশির উনাকে তাবিজ ব্যবহার না করতে পরামর্শ দিলো।
কারণ উনারা যদি তাবিজের উপর ভরসা করেন তবে 
সেটা শিরক হবে। ভালো-মন্দ সবকিছুর মালিক শুধু আল্লাহ।
তার চেয়ে বরং প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়লে 
আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে বলে জানালো। 
তাছাড়া পাচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকমতো পড়লেই আল্লাহর পক্ষ হতে এসব থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যায়। 
পরামর্শটা চাচার মনে ধরেছে। তারপরও পীরবাবার কাছে
সুলেমানি কিতাবের বই আছে। সেখান থেকেই তাবিজ লিখে দিয়েছেন। 
শিশির বললো,"চাচা। সুলেমানি তাবিজের বই বলতে কিছুই 
নেই। ইহুদিরা হযরত সুলেমান আ: এর উপর জাদুর বই রাখার
ব্যাপারে অপবাদ দিয়েছিলো। কিন্তু তিনি তো আল্লাহর
রহমতের মাধ্যমে কাজ করতেন। এখন সুলেমানি কিতাবে বিশ্বাস
করা মানে উনার উপর সেই অপবাদ আবার দেওয়া। 
আর এটা গুনাহের কাজ। মানুষ এসব বই লিখে 
উনার নামে চালিয়ে দেয়।"
চাচা শিশিরের কাছে তাবিজ সম্পর্কে আরো কিছু শুনতে চাইলো।
তিনি বললো,"তাবিজে তো আরবিই লেখা থাকে। কোরানের ভাষা?"
শিশির বললো,"আরবিতে কি লেখা থাকে সেটা আপনি পড়তে পারেননা। 
আমিও পারিনা। অনেক সময় আল্লাহর এবং তার রাসুল সা: এর কথা থাকে। আবার শয়তানের কথাও থাকে। 
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থাকে কোন গুন্ডা জিনের দোহাই। সেই জিনের ভয়ে অন্য 
ছোট জিন পালায়। তবে এর মাধ্যমে শিরক হয়। আর শিরকের গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করেন না। 
আবার থাকে কতগুলো সংখ্যা। সঙ্খ্যাতত্বের বিষয়গুলো ইহুদিদের কাছ
থেকে এসেছে। এগুলো দ্বারাও কারো কাছে সাহায্য চাওয়া হয়। 
কার কাছে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে তা আমরা বলতে পারবোনা। 
আরবি মানেই কোরান নয় চাচা। ঘুরেফিরে এসব আপনাকে শিরকের
দিকেই নিয়ে যাবে। অনেক সময় ইমাম সাহেব যে তাবিজ দিচ্ছেন উনি
নিজেও জানেন না যে আরবিতে উনি কি লিখেছেন।"
চাচা অবাক হলেন। এখন কি করা যায় তার পরামর্শ চাইলেন। 
শিশির বললো,"প্রত্যেক নামাজের পর দুরুদসহ আয়াতুল কুরসি এবং 
কুল দিয়ে শুরু করা চারটি সুরা পড়ে গায়ে ফু দিলেই তো আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যায়।
এর বাইরে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহাদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লী শাইয়ীন ক্বাদির।"
এটি ফজরের পর একশত বার পড়লে ইনশাআল্লাহ কোন শয়তান সারাদিন 
ক্ষতি করতে পারবেনা। আবার এটি আসরের পর একশত বার পড়লে সারারাত নিরাপদ থাকবে।
তাবিজ তো আজকে কাজ করলেও কাল কাজ করবেনা৷ 
কিন্তু এই আমলগুলো করলে সব সময় আল্লাহ নিরাপত্তা দিবেন। এর বাইরেও আরো আমল আছে। তবে এইগুলোই যথেষ্ট। 
আসলে আল্লাহ এমন আমলের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যেন তা করলে আমরা নিরাপত্তা 
পাই আবার আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনও করতে পারি। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন মানেই 
জান্নাত। আর এসব তাবিজ মানুষকে ভুল পথে নিয়ে যায়।"
লালমিয়া চাচা ব্যাপারটা বুঝতে পারলেন এবং তাবিজটি একটি ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিলেন। 

Comments

    Please login to post comment. Login