
আপনি আইএসআইএসকে বুঝতে পারবেন না যদি সৌদি আরবের ওয়াহাবিবাদের ইতিহাস না জানেন
Alastair Crooke একজন সাবেক MI6 গোয়েন্দা কর্মকর্তা
বৈরুত
ইরাকের মঞ্চে দা’ইশ (আইএসআইএস)-এর নাটকীয় আবির্ভাব পশ্চিমা বিশ্বে অনেককেই বিস্মিত করেছে। তীব্র সহিংসতাপ্রবণ হওয়া সত্ত্বেও সুন্নি তরুণদের কাছে এর খোলামেলা আকর্ষণ দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত—এবং আতঙ্কিত। কিন্তু যে বিষয়টি তার থেকেও বেশি মানুষকে অবাক করেছে তা হলো - এই ঘটনার ব্যাপারে সৌদি আরবের দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থান।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন:
“সৌদিরা কি বুঝতে পারছে না যে আইএসআইএস তাদের জন্যও হুমকি?”
দেখা যাচ্ছে—এখনও পর্যন্ত—সৌদি আরবের শাসক অভিজাত শ্রেণির মধ্যে এ বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। কেউ কেউ এই ভেবে খুশি যে আইএসআইএস ইরানি শিয়া “আগুন”-এর বিরুদ্ধে সুন্নি “আগুন” দিয়ে লড়াই করছে; কেউ ভাবছে এমন একটি অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে নতুন একটি সুন্নি রাষ্ট্র গড়ে উঠছে যে স্থানকে তারা ঐতিহাসিকভাবে সুন্নিদের উত্তরাধিকারভূমি বলে মনে করে; আবার অপরদিকে দা’ইশের কঠোর সালাফি মতাদর্শও তাদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়।
সৌদি নাগরিকরাও কিন্তু বেশ উদ্বিগ্ন। তাদের এখনও মনে আছে আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে ওয়াহাবি ইখওয়ানের বিদ্রোহের ইতিহাস। এই বিদ্রোহ ১৯২০-এর দশকের শেষ দিকে ওয়াহাবিবাদ ও আল-সৌদ শাসনকে প্রায় ভাঙনের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। তারাও কিন্তু সৌদি আরবের বর্তমান দিকনির্দেশনা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের কিছু দিক নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
(একটি সতর্কীকরণ: এখানে যে ইখওয়ান বলা হচ্ছে তার সাথে মুসলিম ব্রাদারহুডের ইখওয়ান-এর কোনো সম্পর্ক নেই। অনুগ্রহ করে লক্ষ্য করুন—এখানে উল্লেখিত ইখওয়ান বলতে বোঝানো হচ্ছে ওয়াহাবি ইখওয়ান, মুসলিম ব্রাদারহুডের ইখওয়ান নয়।)
সৌদি দ্বৈততা
আইএসআইএসকে ঘিরে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ মতভেদ ও উত্তেজনা বুঝতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে সৌদি রাজ্যের মতাদর্শিক কাঠামো ও ঐতিহাসিক সূচনার মাঝে অন্তর্নিহিত (প্রায় চিরস্থায়ী এক) দ্বৈততা।
সৌদি পরিচয়ের একটি প্রধান ধারা সরাসরি সম্পর্কিত মুহাম্মদ ইবন আবদ আল-ওয়াহহাব-এর সাথে (ওয়াহাবিবাদের প্রতিষ্ঠাতা) এবং ইবন সৌদ এর সাথেও, যিনি আল-ওয়াহাব এর কঠোর, বর্জনবাদী ও পিউরিটান মতবাদকে কাজে লাগিয়েছিলেন।
(ইবন সৌদ নিজে তেমন বড় কোনো নেতা ছিলেন না। সে সময় তীব্র গরমে জর্জরিত ‘নাজদের’ (Nejd) মরুভূমিতে উত্তপ্ত মরুভূমিতে বসবাস করতো অত্যন্ত দরিদ্র বেদুইন গোত্রগুলো - যারা নিজেদের মাঝেই সংঘর্ষ আর লুটতরাজে লিপ্ত ছিল। ইবন সৌদ ছিলেন এরকম একটি গোত্রেরই একজন নেতা।
এই বিভ্রান্তিকর দ্বৈততার দ্বিতীয় ধারা রাজা আবদুল আজিজের সাথে সম্পর্কিত, যিনি ১৯২০-এর দশকে রাষ্ট্রগঠনের সময় কিছু উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেনঃ
- - তিনি ইখওয়ানদের সহিংসতা দমন করেন (যাতে ব্রিটেন ও আমেরিকার সঙ্গে একটি জাতি-রাষ্ট্র হিসেবে কূটনৈতিক স্বীকৃতি লাভ করা যায়);
- - তিনি মূল ওয়াহাবি চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন
- - ১৯৭০-এর দশকে হঠাৎ হাতে পাওয়া পেট্রোডলারকে কাজে লাগিয়ে সেই অস্থিতিশীল ইখওয়ানি ধারা দেশের ভেতর থেকে সরিয়ে বাইরে রপ্তানির দিকে পরিচালিত করেন। তিনি সহিংস বিপ্লব এর পথ থেকে সরে গিয়ে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে একটি 'সাংস্কৃতিক বিপ্লব' ছড়িয়ে দেন।

কিন্তু এই “সাংস্কৃতিক বিপ্লব” কোনো শান্ত বা নরম সংস্কারবাদ ছিল না। এই বিপ্লব আবদ আল-ওয়াহহাবের অন্তরের জ্যাকোবিনদের মতো তীব্র ঘৃণা থেকে উৎসারিত—যে ঘৃণা তিনি চারপাশে দেখতে পাওয়া পচন ও বিচ্যুতির বিরুদ্ধে অনুভব করতেন। এজন্যই তিনি ইসলামকে সব ধরনের ভ্রান্ত মতবাদ ও মূর্তিপূজা থেকে “পরিশুদ্ধ” করার আহ্বান জানান।
মুসলিম ছদ্মবেশীরা
আমেরিকান লেখক ও সাংবাদিক স্টিভেন কোল লিখেছেন, কীভাবে ১৪শ শতকের আলেম ইবনে তাইমিয়্যার এই কঠোর ও নিন্দামুখর অনুসারী আবদ আল-ওয়াহহাব “শিষ্টাচারী, শিল্পমনা, তামাকসেবী, হাশিশ পানকারী, ঢোল বাজানো মিশরীয় ও উসমানীয় অভিজাত—যারা আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে মক্কায় নামাজ পড়তে আসা" মানুষদের ঘৃণা করতেন। আবদ আল-ওয়াহহাবের দৃষ্টিতে এরা মুসলমান ছিল না; ছিল মুসলমান সেজে থাকা প্রতারক। এমনকি স্থানীয় বেদুইন আরবদের আচরণও তার কাছে খুব একটা ভালো মনে হয়নি। তাদের আচরণ তাকে ক্ষুব্ধ করত—কারণ তারা ‘সন্ত’দের সম্মান করতো, কবরের উপর সমাধিফলক স্থাপন করত, এবং বিভিন্ন রকম “কুসংস্কারে” বিশ্বাস করত (যেমন—কোনো কবর বা স্থানের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা দেখানো, যেগুলোকে ঐশ্বরিক অনুগ্রহে পূর্ণ বলে মনে করা হতো)।
এই সব আচরণকেই আবদ আল-ওয়াহহাব বিদআত বলে নিন্দা করেন—যা তার মতে আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন।
তার পূর্বসুরি ইবনে তাইমিয়্যার মতোই আবদ আল-ওয়াহহাব বিশ্বাস করতেন যে নবী মুহাম্মদের মদিনায় অবস্থানকালীন সময় মুসলিম সমাজের আদর্শ সময় (“সেরা যুগ”), এবং সব মুসলমানের উচিত সেই সময়কে অনুসরণ করার চেষ্টা করা। মূলত এটিই সালাফিবাদের ভিত্তি।
ইবনে তাইমিয়্যা শিয়াবাদ, সুফিবাদ এবং গ্রিক দর্শনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তিনি নবীর কবর জিয়ারত করা এবং তাঁর জন্মদিন উদযাপনের বিরুদ্ধেও কথা বলেছিলেন। তার মতে, এই সব আচরণ আসলে খ্রিস্টানদের যিশুকে ঈশ্বর হিসেবে পূজা করার অনুকরণ—অর্থাৎ এক ধরনের মূর্তিপূজা।
আবদ আল-ওয়াহহাব তার পূর্ববর্তীজনের সমস্ত শিক্ষাই আত্মস্থ করেছেন এবং বলেছেন, কোনো বিশ্বাসীর যদি এই নির্দিষ্ট ব্যাখ্যার প্রতি “সন্দেহ বা দ্বিধা” থাকে, তাহলে তাকে “তার সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে।”
আবদ আল-ওয়াহহাবের মতবাদের অন্যতম প্রধান নীতি হয়ে ওঠে তাকফির ধারণা। তাকফিরি মতবাদ অনুযায়ী, আবদ আল-ওয়াহহাব ও তার অনুসারীরা অন্য মুসলমানদের কাফির ঘোষণা করতে পারতেন, যদি তারা এমন কোনো কাজ করত যা শাসকের কর্তৃত্বের সার্বভৌমত্বে বা ক্ষমতায় কোনোভাবে হস্তক্ষেপ করে বলে মনে হতো।
আবদ আল-ওয়াহহাব সব মুসলমানকে নিন্দা করতেন যারা মৃত ব্যক্তি, সন্ত বা ফেরেশতাদের সম্মান করত। তার মতে, আল্লাহর প্রতি মানুষের সম্পূর্ণ আনুগত্যের যে অনুভূতি থাকা উচিত, তা থেকে এই ধরনের আবেগ মানুষকে বিচ্যুত করে। ফলে ওয়াহাবি ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়—
- সন্ত বা মৃত প্রিয়জনদের উদ্দেশে দোয়া করা,
- কবর বা বিশেষ মসজিদে তীর্থযাত্রা করা,
- সন্তদের স্মরণে ধর্মীয় উৎসব পালন করা,
- নবী মুহাম্মদের জন্মদিন উদযাপন করা,
- এমনকি মৃতদের দাফনের সময় কবরের উপর সমাধিফলক ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ করা হয়।
আবদ আল-ওয়াহহাব পূর্ণ আনুগত্য ও একরূপতা দাবি করতেন—এমন এক আনুগত্য, যা দৃশ্যমান ও বাস্তব উপায়ে প্রকাশ করতে হবে। তিনি যুক্তি দেন যে সব মুসলমানকে ব্যক্তিগতভাবে একজন একক মুসলিম নেতার প্রতি আনুগত্যের শপথ নিতে হবে (যদি কোনো খলিফা থাকেন, তাহলে তার প্রতি)।
যারা এই মতের সাথে একমত হবে না, তাদের হত্যা করা উচিত—তাদের স্ত্রী ও কন্যাদের শ্লীলতাহানি করা হবে এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে—এমনটাই তিনি লিখেছিলেন।
যাদের মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) আখ্যা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার যোগ্য বলা হয়েছিল, তাদের মাঝে ছিল শিয়া, সুফি এবং অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়—ইনাদেরকে আবদ আল-ওয়াহহাব মোটেই মুসলমান বলে মনে করতেন না।
এখানে এমন কিছু নেই যা ওয়াহাবিবাদকে আইএসআইএস থেকে আলাদা করে। পার্থক্যটি তৈরি হয় পরবর্তীতে—যখন মুহাম্মদ ইবন আবদ আল-ওয়াহহাবের মতবাদকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয় এবং “এক শাসক, এক কর্তৃত্ব, এক মসজিদ” এই নীতিতে গড়ে তোলা হয়। এই তিনটি স্তম্ভ দ্বারা যথাক্রমে বোঝানো হয়—
- - সৌদি রাজাকে,
- - সরকারি ওয়াহাবিবাদের পরম কর্তৃত্বকে,
- - এবং “বয়ানের উপর নিয়ন্ত্রণ” (অর্থাৎ মসজিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ)।
আইএসআইএসের এই তিনটি স্তম্ভকেই অস্বীকার করে—এবং এই পার্থক্যই সুন্নি কর্তৃত্বের বিদ্যমান কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে। ফলে আইএসআইএস, যা অন্য প্রায় সব ক্ষেত্রে ওয়াহাবিবাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সৌদি আরবের জন্য একটি গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (১৭৪১–১৮১৮)
আবদ আল-ওয়াহহাবের এই অত্যন্ত চরমপন্থী মতবাদ প্রচারের ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে তার নিজ শহর থেকে বহিষ্কার করা হয়।
১৭৪১ সালে কিছু ঘোরাঘুরির পর তিনি ইবন সৌদ ও তার গোত্রের আশ্রয়ে নিরাপত্তা পান।
ইবন সৌদ আবদ আল-ওয়াহহাবের নতুন মতবাদের মাঝে একটি সুযোগ খুঁজে পেয়েছিলেন—যা দিয়ে আরবের প্রচলিত রীতিনীতি ও প্রথাকে উল্টে দেওয়া যেতে পারে। প্রকৃতপক্ষে তিনি একে ক্ষমতা দখলের একটি পথ হিসেবেই বিবেচনা করছিলেন।
ইবন সৌদের গোত্র আগের মতোই তাদের আশেপাশের গ্রামগুলোতে হামলা এবং সম্পদ লুটপাট চালিয়ে যেতে লাগলো - তবে এবার তারা আরব ঐতিহ্যের অনুসরণ করে নিয়মের মধ্যে থেকে হামলা চালাচ্ছিলো না, বরং আবদ আল-ওয়াহহাবের মতবাদকে কাজে লাগিয়ে তারা এর নাম দিয়েছিলো জিহাদ। ইবন সৌদ ও আবদ আল-ওয়াহহাব জিহাদের নামে শহীদ হওয়ার ধারণাটিও পুনরায় চালু করেন, কারণ এতে যারা শহীদ হবে তারা সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করবে—এমন বিশ্বাসের প্রচার জোরদার হবে।
প্রথমদিকে তারা কয়েকটি স্থানীয় সম্প্রদায় দখল করে এবং তাদের ওপর নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। (দখল করা জনগণকে সীমিত একটি বিকল্প দেওয়া হতো: ওয়াহাবিবাদ গ্রহণ করো, অথবা মৃত্যু বরণ করো।) ১৭৯০ সালের মধ্যে এই জোট আরব উপদ্বীপের অধিকাংশ অংশ নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং বারবার মদিনা, সিরিয়া ও ইরাকে হামলা চালায়।
তাদের কৌশল—আজকের আইএসআইএসের মতোই ছিল। যেসব জনগণকে তারা দখল করত, তাদের সম্পূর্ণভাবে বশীভূত করে ফেলতো। তাদের লক্ষ্য ছিল ভয় সৃষ্টি করা।
১৮০১ সালে এই জোট ইরাকের পবিত্র শহর কারবালা আক্রমণ করে। সেখানে তারা নারী ও শিশু সহ হাজার হাজার শিয়াকে হত্যা করে। অনেক শিয়া পবিত্র স্থাপনাও ধ্বংস করা হয়, যার মধ্যে ছিল ইমাম হুসাইনের মাজার—যিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদের শহীদ নাতি।
সে সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী এক ব্রিটিশ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ফ্রান্সিস ওয়ার্ডেন লিখেছিলেন:
“তারা পুরো [কারবালা] শহর লুট করে এবং হুসাইনের সমাধিও লুট করে... এবং সেদিন তারা বিশেষ নিষ্ঠুরতার সাথে পাঁচ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে হত্যা করে...”
প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের ইতিহাসবিদ ওসমান ইবন বিশর নাজদি লিখেছেন যে ইবন সৌদ ১৮০১ সালে কারবালায় একটি গণহত্যা সংঘটিত করেছিলেন। তিনি গর্বের সাথে সেই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ লিখে বলেন:
“আমরা কারবালা দখল করেছিলাম এবং তার জনগণকে হত্যা করেছি ও বন্দি (দাস) করেছি। তারপর আমরা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করেছি। আমরা এর জন্য কোনো ক্ষমা চাই না; বরং আমরা বলি: ‘অবিশ্বাসীদের জন্যও একই আচরণ।’”
১৮০৩ সালে আবদুল আজিজ যখন পবিত্র নগরী মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন বাসিন্দারা ভয় ও আতঙ্কেই আত্মসমর্পণ করে ফেলেন। (পরবর্তীতে মদিনারও একই পরিণতি হয়।)
আবদ আল-ওয়াহহাবের অনুসারীরা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলের ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ, কবর ও মাজার সব ধ্বংস করে দেয়। শেষ পর্যন্ত তারা গ্র্যান্ড মসজিদের আশপাশে শতাব্দীপ্রাচীন ইসলামী স্থাপত্যের বড় অংশও ধ্বংস করে ফেলে।
কিন্তু ১৮০৩ সালের নভেম্বর মাসে এক শিয়া আততায়ী রাজা আবদুল আজিজকে হত্যা করে—কারবালার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে।
তার ছেলে সৌদ বিন আবদ আল-আজিজ তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং আরব জয় করার অভিযান চালিয়ে যেতে থাকেন।
তবে অটোমান (উসমানীয়) শাসকরা তাদের চোখের সামনে নিজেদের সাম্রাজ্য টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া দেখতে রাজি ছিলেন না।
১৮১২ সালে মিশরীয় সৈন্যদের নিয়ে গঠিত অটোমান বাহিনী মদিনা, জেদ্দা এবং মক্কা থেকে এই জোটকে বিতাড়িত করে।
১৮১৪ সালে সৌদ বিন আবদ আল-আজিজ জ্বরে মারা যান। কিন্তু তার দুর্ভাগা পুত্র আবদুল্লাহ বিন সৌদকে অটোমানরা ইস্তাম্বুলে নিয়ে যায়, যেখানে তাকে ভয়াবহভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
ইস্তাম্বুলে আগত এক দর্শনার্থী লিখেছিলেন যে—
তাকে তিন দিন ধরে ইস্তাম্বুলের রাস্তায় অপমান করা হয়, তারপর তাকে ফাঁসি দেওয়া হয় ও শিরশ্ছেদ করা হয়, তার বিচ্ছিন্ন মাথা কামান থেকে নিক্ষেপ করা হয়, এবং তার হৃদপিণ্ড বের করে তার দেহে গেঁথে রাখা হয়।
১৮১৫ সালে ওয়াহাবি বাহিনী মিশরীয়দের কাছে (যারা অটোমানদের পক্ষে যুদ্ধ করছিল) এক যুদ্ধে রীতিমত গুঁড়িয়ে যায়।
১৮১৮ সালে অটোমানরা ওয়াহাবিদের রাজধানী দরিয়াহ দখল করে এবং ধ্বংস করে দেয়।
অবসান ঘটে প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের ।
যে অল্পসংখ্যক ওয়াহাবি বেঁচে ছিল তারা মরুভূমিতে ফিরে গিয়ে পুনরায় সংগঠিত হয়। যদিও ১৯শ শতকের অধিকাংশ সময় তারা সেখানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল।
চলবে