একটি ছোট গ্রামে থাকতেন এক দুঃখিনী মা। তার নাম ছিল রহিমা। অনেক বছর আগে তার স্বামী মারা গিয়েছিল। তখন থেকে তিনি একাই তার ছোট ছেলেকে মানুষ করার জন্য অনেক কষ্ট করতেন।
রহিমা প্রতিদিন ভোরে উঠতেন। কখনো মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন, কখনো মাঠে গিয়ে ধান কাটার কাজ করতেন। সারাদিন কষ্ট করে যে সামান্য টাকা পেতেন, তা দিয়ে ছেলের পড়াশোনা আর খাবারের ব্যবস্থা করতেন। নিজের জন্য তিনি খুব কমই কিছু রাখতেন।
একদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। তবুও রহিমা কাজ করতে বের হলেন, কারণ ঘরে খাবার ছিল না। ভিজে ভিজে কাজ করে তিনি কিছু টাকা পেলেন এবং বাজার থেকে একটু চাল আর ডাল কিনে বাড়ি ফিরলেন।
ছেলেটি মাকে ভিজে অবস্থায় দেখে খুব কষ্ট পেল। সে মাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“মা, তুমি আমার জন্য এত কষ্ট করো কেন?”
রহিমা হেসে বললেন,
“তুই বড় হয়ে মানুষ হবি, এটাই আমার সবচেয়ে বড় সুখ।”
ছেলেটি মনের মধ্যে প্রতিজ্ঞা করল—সে বড় হয়ে অনেক পড়াশোনা করবে এবং মায়ের সব কষ্ট দূর করবে।
বছর কয়েক পরে সেই ছেলেটি অনেক পড়াশোনা করে ভালো মানুষ হলো। সে তার মাকে আর কখনো কষ্ট করতে দেয়নি। তখন গ্রামের মানুষ বলত,
“মায়ের কষ্ট কখনো বৃথা যায় না।”
33
View