আধুনিক দাস ব্যবস্থা মূলত মানব পাচার, জোরপূর্বক শ্রম ও শোষণমূলক, যা আইনত নিষিদ্ধ ও গোপনীয়।
অন্যদিকে, ইসলামের দাস ব্যবস্থা ছিল যুদ্ধের বন্দীদের পুনর্বাসনের একটি সাময়িক সামাজিক রূপ।
এখানে দাসদের মানবিক অধিকার, ভালো খাদ্য ও পোশাকের নিশ্চয়তা দেওয়া এবং ধাপে ধাপে দাস মুক্তির মাধ্যমে তা বিলুপ্তির পথে নিয়ে যাওয়ার নীতি ছিল।
আধুনিক দাস ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ অবৈধ, গোপন এবং মূলত ব্যক্তিগত স্বার্থে (কারখানা, গৃহকর্ম) মানুষকে জোরপূর্বক কাজে বাধ্য করা হয়। মানব পাচার, ঋণের দাসত্ব, যৌনকর্ম ও যৌনপেশা, জোরপূর্বক বিবাহ ও শিশুশ্রম আধুনিক দাসত্বের প্রধান রূপ।
আধুনিক পুজিবাদী সমজা ব্যবস্থার এটি একটি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক শোষণের রূপ।
ইসলামে বৈধ যুদ্ধের বন্দীদের দাস হিসেবে গণ্য করা হতো। স্বাধীন মানুষকে দাস বানানো নিষিদ্ধ ছিল।
ব্যবস্থা ছিলো এমন যে, মনিব যা খাবে, দাসকে তা-ই খাওয়াতে হবে; মনিব যা পরিধান করবে, দাসকে তা-ই পরাতে হবে; তাদের সামর্থ্যের বাইরে কাজের চাপ দেওয়া যাবে না।
শুধু তাই নয়, ইসলাম দাসত্বকে সরাসরি নিষিদ্ধ না করে দাস মুক্তির পথ সুগম করে। পাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে, কাফফারা হিসেবে, অথবা অর্থের বিনিময়ে দাস মুক্তির ব্যাপক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, ইসলাম মানুষকে শুধুমাত্র আল্লাহর দাসত্ব করতে বলে, মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্তি দেয়।
এটি মানবিক আচরণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে দাসপ্রথা নির্মূলের দিকে পরিচালিত করেছিল। বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং নিষিদ্ধ। তাই বর্তমান ইসলামি বিশ্বে কোন দাস নেই।
অপরদিকে সারা বিশ্বে প্রায় ৫ কোটির অধিক মানুষ আধুনিক দাস ব্যবস্থার স্বীকার হয়ে আছে।