Posts

গল্প

অপরকে হতাশাব্যঞ্জক কথা বলে মজা নেওয়া

March 13, 2026

Md. Anwar kadir

25
View

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমার বন্ধুদের মাঝে দুইজন ছিলো যাদের চোখের সমস্যা আছে। আমি ওদের এই সমস্যা নিয়ে কখনোই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করিনি। তবে ভাবতাম যে, ওরা কিভাবে চাকরি পাবে?
মাশাল্লাহ। ওরা আমার আগেই চাকরি পেয়ে যায়৷ একজন তো বিসিএস ক্যাডার হয়েছে। অপরজনও খুব একটা প্রথম শ্রেণির চাকরি করে৷ 
ছাত্রজীবনে অনেকেই আমাকে নিয়ে মজা করে মুখের উপর হতাশাব্যাঞ্জক কথাবার্তা বলেছেন। এমনকি কাছের বন্ধুরাও আমাকে বডি শেমিং করেছে দেখতে চেহারা ভালো না বলে বা উচ্চতা কম বলে। 
আত্মীয়দের মাঝে একটা অংশ আবার আমাকে দিয়ে কিছু হবেনা, এই টাইপের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতো। তাও আবার কাছের মুরুব্বি আত্মীয়। ইচ্ছে থাকলেও মুখের উপর কিছু বলার মতো সাহস তখন ছিলোনা। 
আমি বুঝিনা। কেন মানুষ উৎসাহ প্রদান না করে উল্টো সবকিছুতেই নিরুৎসাহিত করে। এটা করে খুব মজা পায়। পাশবিক আনন্দ পায়। আমার বিশ্বাস, আমাদের বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত সমাজের ব্যর্থতার একটা বড় কারণ এই  আশেপাশের মানুষের দ্ধারা নিরুৎসাহিত হওয়া। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকার সময়কার একটা ঘটনা। পড়াশোনা একদম হচ্ছেনা। আমি আবার কেমন যেন ওই সময়টাতে ইমোশনাল শুন্যতায় ভুগছিলাম। কেউ কিছু বললেই কয়েকদিনের জন্য মন খারাপ থাকতো। তো পড়তে গেলাম লাইব্রেরিতে। সেখানে এক মেধাবী বন্ধু গালিসহ একটা বাজে কথা বললো। উঠে চলে আসলাম৷ এই ঘটনায় আবার পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম। 
সেই মেধাবী বন্ধু আবার আমার আগেই খুব ভালো চাকরি পেয়েছে। হতাশা আমাকে ঝেকে ধরেছিলো তখন৷ যাহোক, পরবর্তী জীবনে কিছু ফেরেশতার মতো বন্ধু আমাকে উৎসাহিত করেছে। আলহামদুলিল্লাহ। আজকে শত বাধা-বিপত্তি এবং নিরুৎসাহিতকরণের পরও আমি ভালো অবস্থানে আছি। 
আমরা অনেককেই ছোট করে কথা বলে মজা নিই। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা জানিনা। আল্লাহ হয়ত একদিন তাকে আমার চেয়ে বেশি সম্মানিত করবেন। সে কি ভুলে যাবে, যে তার দুর্দিনে আমরা পাশে থাকিনি? উল্টো তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছি? তাকে নিরুৎসাহিত করেছি?
আল্লাহ সবাইকে বুঝার তাউফিক দান করুন।

Comments

    Please login to post comment. Login